সাংবাদিক পরিচয়ে ক্যাসিনো জয়নালের চাঁদাবাজি (ভিডিও)

সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জুয়ার আসরে নিয়মিত চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে জুরাইন এলাকার এক সময়কার কুখ্যাত মাদকব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিনের বিরুদ্ধে। প্রতিদিন জুয়ার আসর থেকে সে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সহায়তায় নিয়মিত এ কাজ করছে বলে অভিযোগ আছে।

সূত্র জানায়, রাজধানীর পোস্তগোলা, জুরাইনসহ যাত্রাবাড়ি এলাকায় প্রতিদিন প্রকাশ্যে শতাধিক জুয়ার বোর্ড বসে। সরকারের ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মুখে এখন তা গোপনে চলে গেছে। এই সুযোগে ক্যাসিনো জয়নাল জুয়ার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। এক সময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন জুয়ার বোর্ডগুলোই ক্যাসিনো জয়নালের আয়ের অন্যতম উৎস। জয়নালের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে কমপক্ষে ৩০টি জুয়ার বোর্ড চলছে জুরাইন এলাকায়। এছাড়া অন্যদের দখলে থাকা প্রায় শতাধিক বোর্ড থেকে চাঁদা আদায় করে সে। এসব চাঁদার ভাগ যায় পুলিশ, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের পকেটে।

অভিযোগ আছে, কখনও ম্যাজিক বাংলা টিভি, ইনকিলাব, কখনও ইত্তেফাক, মানবজমিন কিংবা ডেইলি ট্রাইব্যুনালের পরিচয় দিয়ে জুয়ার বোর্ডের চাঁদাবাজি করে ক্যাসিনো জয়নাল। সম্প্রতি জুয়ার বোর্ড পরিচালনারত জয়নালের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মো. কালাম নামে জুরাইন এলাকার এক ব্যবসায়ী ভিডিওটি আপলোড করেছেন। সেখানে জুয়ার বোর্ড পরিচালনায় ব্যস্ত দেখা গেছে ক্যাসিনো জয়নালকে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্যাসিনো জয়নালের দাপটে এলাকাবাসী তটস্থ থাকে সবসময়। সে নিজেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতির নেতা হিসেবে পরিচয় দেয়। এ পরিচয়ে সে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে। ইউটিউবে আপলোড করা অপর একটি চ্যানেলের ভিডিওতে জয়নালের পরিচয় বলা হয়েছে, সে ম্যাজিক বাংলা টিভির সিনিয়র রিপোর্টার এবং তার বাড়ি নীলফামারী। টিভির প্রতিবেদনে ক্যাসিনো জয়নালকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভয় করে না। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা ছাড়া জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করা অসম্ভব।

সম্প্রতি জুরাইন এলাকায় ক্যাসিনো জয়নালকে গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে সেখানকার বাসিন্দারা। জয়নালের এহেন কর্মকান্ড বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে তারা। এবিষয়ে ক্যাসিনো জয়নালের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ফোন কেটে দেন।

Comments

comments