আরবি ভাষা জানেনা মাদরাসার মহাপরিচালক ও চেয়ারম্যানসহ হাজারও কর্মকর্তা

অফিসিয়াল কাজের জন্য দরকারি আরবি ভাষা লিখতে, বলতে ও পড়তে জানেন না মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। শুধু তারাই নন সারা বাংলাদেশের হাজার হাজার আলিয়া মাদরাসার নিয়োগ, বেতন-ভাতা ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই দুটি প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির কর্মকর্তারাও আরবি ভাষা পড়তে, বলতে ও লিখতে জানেন না। শুনেও সব বুঝতে পারেন না। বড় কর্তারা আরবি পড়তে ও লিখতে না জানায় ভরসা করতে হয় গুটিকয় অধস্তন কর্মককর্তা ও অফিস সহকারীর ওপর। আর তাই এ দুটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আরবি জানা লোকদের বেশ কদর। বিশেষ অনুসন্ধানে এ সব তথ্য উঠে এসছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আরবি ভাষা না জানায় আরবিতে লেখা বিদেশি চিঠির মর্ম বোঝেন না মাদরাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: সফিউদ্দিন ও মাদরাসা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার হোসেন।সাবলীলভাবে কথাও বলতে পারেন না তারা। এতে নানা ধরণের সমস্যা সমাধান না করে সেগুলো অব্যাহতভাবে চেপে যায় কর্মকর্তারা। ক্ষতিগ্রস্থ হয় দেশ। বঞ্চিত হয় লাখ লাখ মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী তথা গোটা দেশ। এই দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের কর্তারা তাই সরকারি টাকায় শিক্ষাসফরের পছন্দের তালিকায়ও আরবি ভাষাভাষির দেশগুলো রাখেন না বলে সূত্রটি জানায়।

দেখা গেছে, এসব কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, থাইল্যাণ্ড, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে তাদের সরকারি সফরের অভিজ্ঞতা বেশি। গত সপ্তাহে মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান কানাডা সফরে গিয়েছিলেন ইএমআইএস সেল বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য।

সূত্রটি বলছে, আরবি জানা লোকের অভাবে মাদরাসা বোর্ডের সনদ শাখায় যুগ যুগ ধরে ঘুরে ফিরে একই কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পদায়ন পান। আর আরবি না জানায় বিভিন্ন ধরনের সনদ ও মার্কশিট যাচাইয়ে ওই গুটিকয় কর্মকর্তার ওপরই নির্ভর করতে হয় মাদরাসা বোর্ডকে। তারা সর্বক্ষণিক নির্ভর করেন কর্মকর্তা ছালেহ উদ্দিনের ওপর।

এরই মধ্যে আজ (১৮ ডিসেম্বর) প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে উদযাপিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব আরবি ভাষা দিবস। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসটি উদযাপনের আয়োজন করেছে। এ উপলক্ষে আজ দুপুর ২টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও বিশ্ব আরবি ভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব জনাব মো. সোহরাব হোসাইন,কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ।

অনুষ্ঠানে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সব মাদরাসার অধ্যক্ষ ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকবেন।

ইসলামী বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদ্রাসার দায়িত্ব হলো ইসলামী শিক্ষা প্রদাণ করা। সেই প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ইসলামী জ্ঞান ও আরবী ভাষা লিখতে বা বলতে না পারা লজ্জা জনক। দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যে দলীয়করণ করে জাতিকে মেধাশূন্য করার প্রচেষ্টা চলছে এটা তার উজ্জল দৃষ্টান্ত।

Comments

comments