আ’লীগ নেতার বন্দুক নিয়ে নাতির বাহাদুরি!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এক ইউপি আওয়ামীলীগ নেতার দুই নলা বিন্দুক নিয়ে তার নাতির কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কুতুব উদ্দিন ভূঁইয়ার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র (দুই নালা বন্দুক) নিয়ে তার নাতি (বড় মেয়ের সন্তান) গাজী কাইফ প্রায়ই এলাকায় প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে যাচ্ছেন। বন্দুক সাথে নিয়ে স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ও এ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নানা অঙ্গভঙ্গিতে ছবি তোলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্টও দিচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, কুতুব উদ্দিন ভূঁইয়ার এই বন্দুক প্রায়ই তার নাতি কাইফ নিয়ে এসে বাজারে মহড়া দেয়। অনেক সময় এ বন্দুক দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হয়। কুতুব উদ্দিন এই বন্দুককে পুঁজি করে এখানে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ অবৈধ দখলবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই বন্দুকের লাইসেন্স বাতিলসহ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬-এর অনুচ্ছেদ ২৫(গ) অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী কোন ব্যক্তি নিজে ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা সম্পত্তি রক্ষার জন্য অস্ত্রধারী প্রহরী হিসেবে নিয়োজিত করতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে তার অস্ত্রের লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে বাতিলযোগ্য হবে।

এছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬-এর অনুচ্ছেদ ২৫(ক) অনুযায়ী কোন ব্যক্তি স্বীয় লাইসেন্সে এন্ট্রিকৃত অস্ত্র আত্মরক্ষার নিমিত্ত নিজে বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অন্যের ভীতি ও বিরক্তি উদ্রেক করতে পারে এরূপভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।

অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, কুতুব উদ্দিন ভূঁইয়ার নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে এখানকার মানুষ অতিষ্ঠ। তিনি আমার আপন বড় চাচা। মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দখলবাজিই তার প্রধান কাজ। ইতোমধ্যে অরুয়াইল এলাকায় কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে সেখানে তিনি মার্কেট নির্মাণ করেছেন। তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে দেওয়া হয় মামলা।

এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাৎ হোসেন টিটু বলেন, আইন অনুযায়ী শুধু জানমাল রক্ষার্থে একজন লাইসেন্সধারী তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন। আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য ছাড়া অস্ত্রধারী কোনো ব্যক্তি প্রয়োজন ছাড়া তার অস্ত্র প্রদর্শন করতে পারবেন না। অস্ত্রটি এমনভাবে রাখতে হবে যা দেখে সাধারণ মানুষ ভীত হয়ে না পড়েন।

তিনি আরো বলেন, অথচ কেউ এ নিয়মের তোয়াক্কাই করেন না। অস্ত্রের লাইসেন্স গ্রহণের সময় এর ব্যবহারবিধি দেয়া হলেও কেউ এটি পড়েও দেখেন না। নিজেদের জাহির করার জন্য প্রায়ই প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করেন। মানুষকে ভয়ভীতি দেখান।

Comments

comments