৫ই জানুয়ারি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কলঙ্কিত দিবস

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন দাবি করে আজ ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে নির্বাচনের প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করে গণতন্ত্র হত্যা করেছে। এ দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে মনে করছেন তারা।

রাজনীতি বীদরা বলছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৩ জন সংসদ সদস্যকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল, সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে যার কোন নজির নেই। ৪৭টি ভোটকেন্দ্রে কোন ভোটারই ভোট দিতে যায়নি। সেই নির্বাচনের প্রহসন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচন পর্যন্ত প্রায় সকল নির্বাচনই ছিল ভোটারবিহীন একতরফা সাজানো প্রহসনের নাটক। এসব নির্বাচন থেকেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে যে, বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার জাতীয় সংসদে মাত্র ১১ মিনিটে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করেছিলেন। ঠিক তেমনি ভাবে তার কন্যা শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি প্রহসণের নির্বাচনের মাধ্যমে ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিবস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সচেতন মহল বলছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের সময় সরকার বলেছিল যে, ‘এ নির্বাচন শুধুমাত্র সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন। পরবর্তী সময় সকল দলের অংশগ্রহণে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।’ কিন্তু সরকার সে প্রতিশ্রুতি আজও পালন করেনি। বরং নির্বাচন ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

বর্তমান সরকারের দুঃশাসনে দেশের জনগণ অতিষ্ঠ। এ অবস্থা থেকে জাতিকে উদ্ধারের জন্য নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে সকলের নিকট একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। তাই জাতিকে এ দুঃসহ অবস্থা থেকে উদ্ধারের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্যদেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান রাজনীকি বিশ্লেষকরা।

এর আগে বিএনপি দিবসটি উপলক্ষে ২০১৬ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চাইলেও অনুমতি দেয়নি ক্ষমতাসীন সরকার।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করে হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি পালন করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যরা।

২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তির দিবসটিতে দেশজুড়ে লাগাতার অবরোধ ও হরতালের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর তিনি গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ৯২ দিনের মাথায় তিনি আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য কার্যালয় থেকে বের হন। ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দল সমাবেশের অনুমতি চাইলে তা বাতিল করা হয়।

Comments

comments