বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস: আ’লীগের সভায় যুবলীগের হামলা, আহত অর্ধশত

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় হামলা করেছে উপজেলা যুবলীগ। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর ও অবমাননা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং চাঁদপুর-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া।

সকাল ১১টার দিকে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে একটি মিছিল স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের র‌্যাাল নিয়ে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের সভাস্থলে প্রবেশ করে হামলা করে। পুলিশ মিছিলের সামনে থাকলেও তারা বাধা দিয়ে ব্যর্থ হয়।

এ সময় ছবি তুলতে গিয়ে আব্দুল মমিন গাজী নামে এক সাংবাদিক হামলার শিকার হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের এএসআই মঞ্জুর আলম, এএসআই দিদার হোসেন, কনস্টেবল রাশেদসহ প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়। এদের মধ্যে ছয়জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের পাটওয়ারী জানান, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের সভা চলাকালে যুবলীগ নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। তারা বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবিসহ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা মেনে নেয়া যায় না।

এতে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান আহমেদ রিপন, যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ইরান, আওয়ামী লীগ নেতা নুর হোসেন, মোবাশ্বেরা বেগম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ইলিয়াছ বেগ, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমানসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়।

সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূইয়া জানান, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ন্যাক্কারজনক। পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ।

উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন জানান, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের অনুষ্ঠানে বর্তমান এমপি, উপজেলা যুবলীগসহ কাউকেই দাওয়াত দেয়া হয়নি। তাছাড়া র‌্যালি নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের মিছিলে ইট মারায় ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে নেতাকর্মীরা সেখানে প্রবেশ করে।

ফরিদগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব জানান, যুবলীগের মিছিলটি পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে থাকলেও তারা বেষ্টনী ভেদ করে হামলা করে।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শিউলী হরি জানান, আজকের এই আনন্দময় দিনে এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি।

Comments

comments