পাকিস্তানে তুষারধসে নিহত অন্তত ৭০

আজাদ কাশ্মীর ও পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে তুষারধসে গত তিনদিনে অন্তত ৭০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকেই। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালি সংবাদমাধ্যম ডন নিউজ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে হাজারা ডিভিশন, আজাদ কাশ্মীর, গিলগিত-বালতিস্তান এবং মালাকাণ্ড ডিভিশনে ভূমিধস এবং তুষারধসে কারাকোরাম মহাসড়কসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক এবং আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চিত্রাল প্রদেশের অন্য অংশগুলোর সঙ্গে স্থল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে সবচে বেশি সংখ্যক–৫৫ জন নিহত হয়েছেন আজাদ কাশ্মীরে। সেইসাথে ভারী বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় বেলুচিস্তানে ১৫ জন নিহত হয়েছেন, আহত রয়েছেন ১১ জন।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেশটির অন্তত দুজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, আজাদ কাশ্মীরের নীলাম উপত্যকায় তুষারধসের ঘটনায় অনেক গ্রামবাসী আটকা পড়েছেন। ওই এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটে।

এক কর্মকর্তা বলেন, এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ। আরও অনেকের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের কুপওয়ারা ও গ্যান্ডারবাল জেলায়ও তুষারধসে দেশটির তিন সেনাসদস্যসহ অন্তত ৮ জন নিহত হন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, কুপওয়ারা জেলার মাচিল সেক্টরে সেনাবাহিনীর একটি চৌকিতে তুষারধস হয়েছে। এতে তিন সেনাসদস্য নিহত ও একজন আহত হন। সেনা চৌকিতে তুষারধসের এ ঘটনা ঘটে সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে।

একই দিনে কাশ্মীরের গ্যান্ডারবাল জেলার সনমার্গে তুষারধসের কবলে পড়ে অন্তত পাঁচ বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেন, রাতভর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে তুষারের নিচ থেকে পাঁচজনের মরদেহ ও চারজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এনডিটিভি বলছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় উত্তর কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় ভারী তুষারপাতের কারণে একাধিক তুষারধসের ঘটনা ঘটে। তুষারধসের ঘটনায় চাপা পড়া বেশ কয়েকজন সেনাসদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে।

Comments

comments