আবারো শিবির সন্দেহে নির্যাতন, ছাত্রলীগ সভাপতির হলেই টর্চারসেল!

আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ‘শিবির সন্দেহে’ চার শিক্ষার্থীকে রাতভর মারধর ও নির্যাতন করে ওই হল শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ওই একই হলে থাকেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। তিনি জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৪ শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ও আমির হামজা সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, যে হলে খোদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভপতি থাকেন সেই হলে এবং তারই অনুসারীদের দ্বারা রাতভর শিক্ষার্থী নির্যাতন কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রলীগ সভাপতির দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে কথা কথা বলতে আল নাহিয়ান খান জয়কে মুঠোফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এই ঘটনায় প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মুকিমুল হক চৌধুরী বিচার চেয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এখনো অবস্থান করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দোষীদের বিচার না করা পর্যন্ত তিনি এই অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, কিছুদিন আগেই বুয়েটে আবরার একইভাবে মারধরের শিকার হয়েছেন। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তারা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং মারধরকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। এই ক্যাম্পাসে আর কোনো সন্ত্রাসের ঠাই হবে না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য শিক্ষকদের উপস্থিতিতে তাদেরকে মারা হয়েছে। ওই শিক্ষকদেরও বিচার হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য তাদের। বলেন, কেউ শিবির করলে তার জন্য প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে, অন্য কেউ নন। এ ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানান তারা।

এদিকে হামলার শিকার শিক্ষার্থী মো. মুকিম চৌধুরী বিচারের দাবিতে গতকাল থেকেই অবস্থান নিয়েছেন রাজু ভাস্কর্যে। বুধবার শাহবাগ থানা থেকে ছাড়া পেয়ে বিকেল পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আসেন তিনি। মুকিমুলের সারা মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্য রক্ষার জন্য তিনি স্ট্রেচার ব্যবহার করছেন।

অনশনরত ওই শিক্ষার্থীকে হলে ফিরিয়ে আনতে রাতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে তার প্রশ্নের মুখে পড়েন হল শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন। ওই ছাত্র বলেন, পুলিশ কেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল, হলের কোন আবাসিক কেন নিল না? তার বক্তব্য, ক্যাম্পাসে আমার নিরাপত্তা নেই, হলে তিনি কীভাবে যাবেন?

এ সময় হল প্রোভোস্ট ওই ছাত্রকে হলে ফেরা কিংবা বাসায় যাওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, পরবর্তীতে কোন ধরনের সমস্যা হলে তার দায়-দায়িত্ব তিনি নেব। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদিও সুষ্ঠ বিচার না হওয়া পর্যন্ত হলে ফিরতে অস্বীকৃতি জানান ওই ছাত্র।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলছেন, বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগ শোক র‌্যালি করেছে। তারা বলেছে, ছাত্রলীগ আর এ ধরনের ঘটনায় জড়িত হবে না। কিন্তু এ ঘটনার তিন মাস না যেতেই স্বয়ং ছাত্রলীগ সভাপতির হলে ‘বেপরোয়া’ তাঁর সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাহলে পুরো ক্যাম্পাসে কি অবস্থা?

প্রসঙ্গত, ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে চার শিক্ষার্থীকে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের অভিযোগ উঠে ওই হল শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। মারধরের পর হল প্রশাসন ও ছাত্রলীগ ওই শিক্ষার্থীদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তবে এর কিছুক্ষণ পরই পুলিশ ওই চার শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেন।

Comments

comments