মুসলমান হওয়া সেই ১১ জনকে ভারতে ফেরত পাঠাল পুলিশ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় আলোচিত ইসলামিক বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারির মাহফিলে কালেমা পাঠ করে মুসলমান হওয়া ভারতীয় সনাতন ধর্মের সেই ১১ জনকে জোর পূর্বক বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ভারতে ফেরত পাঠালো পুলিশ।

সোমবার সকাল ৮ টার দিকে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে রামগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে।

ফেরত আসাদের সাথে লক্ষ্মীপুর থেকে আসা পুলিশ সদস্যদের কাছে তাদের এত নিরপত্তার ভিতর দিয়ে কেন ভারত পঠানো হচ্ছে এ প্রশ্নে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হন নি।

নেমপ্লেট বিহীন একজন পুলিশের এসআই বলেন, এদেরকে উপরের নির্দেশ মোতাবকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তাদের সাথে আসা পুলিশ সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা না বলে জোর করে ওই যাত্রীদের নোম্যান্সল্যান্ডে নিয়ে গেলে সেখানে সাংবাদিকদের ধর্মান্তরিত যাত্রী শঙ্কর অধিকারী ওরফে মনির হোসেন বলেন, আমরা গত ২০১৯ সালের আগষ্ট মাসে ২ মাসের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। এরপর আমরা আমাদের পৈত্রিক বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার ইছাপুর গ্রামে থেকে যাই। আমার মা সংরক্ষিত মহিলা আসনের চন্ডীপুর ইউনিয়নের একজন মেম্বার। তার নাম ফাতেমা।

তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হয়েছি। ভারতে আর ফেরত যেতে চাই না। পুলিশ আমাদের ঢাকা নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বেনাপোল দিয়ে ভারত পাঠাল। আমরা সেদেশে যেয়ে কি করব। সবকিছু বিক্রি করে আমরা বাংলাদেশে এসে মুসলমান হয়েছি।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি মাসুম বিল্লাহ বলেন, এরা পাসপোর্ট যাত্রী। এরা নিয়ম অনুযায়ী নিজ দেশে ইমিগ্রেশন এর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ফিরে গেছে। যদি তেমন কোনো সমস্যা থাকত আমরা সে বিষয়টি দেখতাম ।
যাত্রীদের ভাষ্যমতে, তাদের পাসপোর্টের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে জানা যায়। তারা কিভাবে ভিসা ছাড়া সেদেশে গেল তাও জানা যায়নি।

সূত্র মতে, ভিসা শেষ হলে দিন হিসাবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি জরিমানা দিয়ে নিজ দেশে প্রত্যবর্তন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তারা জরিমানা দিয়েছে কি না তাও জানা যায়নি।

ফেরত যাওয়া ভারতীয় নাগরীকরা হলেন- সুজাতা, শেফালি, রাজা, সমা, রেখা সুর্য, শ্যামলী, কোয়েল, মিতালী ও শঙ্কর অধিকারী। এদের মধ্যে ২ জন শিশু ও ৪ জন কিশোর-কিশোরী রয়েছে।

Comments

comments