শিক্ষার্থীদের ওপর প্রকাশ্যে গুলি, নীরব দর্শক অমিত শাহের পুলিশ

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করছেন এক যুবক। একটু দূরেই পুলিশ তা নীরব দর্শকের মতো দেখছেন। গুলিতে আহত হলেন এক শিক্ষার্থী, পুলিশের ব্যারিকেড ডিঙিয়ে তাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।

ভারতীয় দৈনিক আনন্দবাজারপত্রিকার খবরে জানা গেছে, যানজট ঠেলে ৪০ মিনিটে ১০০ মিটার এগিয়েছিল বেলা ১টায় শুরু হওয়া মিছিল। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ৭ নম্বর গেট থেকে মিছিল যাওয়ার কথা ছিল রাজঘাটে।

মহাত্মা গান্ধীর প্রয়াণ দিবসে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে। কিন্তু সেই মিছিলের পথ আটকাতে ব্যারিকেড করে দাঁড়িয়েছিল পুলিশ। তখনই গুলি!

কিন্তু ঘটনা হঠাৎ করে ঘটেছে, এমন দাবি করা যাবে না। দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি পুলিশ পেছনে রেখে পিস্তল হাতে কয়েক মিনিট বিক্ষোভকারীদের শাসিয়ে গুলি করে কালো জ্যাকেট ও সাদা প্যান্ট পরা এক কিশোর।

একসময় কখনও তার গলায় স্লোগান— ‘জয় শ্রীরাম’, কখনও হুমকি— ‘আজাদি চাহিয়ে?…ইয়ে লো আজাদি’। সঙ্গে পিস্তল উঁচিয়ে একনাগারে হুমকি-ধমকি।।

পুরো এ সময়টায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখছিল ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নিয়ন্ত্রণাধীন পুলিশ বাহিনী।

জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, গুলিতে বাঁ হাতে চোট পেয়েছেন তাদের স্নাতকোত্তরের পড়ুয়া শাদাব ফারুখ। তাকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেও অবশ্য ব্যারিকেড সরায়নি পুলিশ।

ফলে রক্তাক্ত বাঁ হাত নিয়েই ব্যারিকেড ডিঙতে হয়েছে শাদাবকে। সন্ধ্যায় পুলিশের দাবি, হাতে লাগা গুলি বার করার পরে শাদাব আপাতত বিপদমুক্ত। গুলি চালানো কিশোর পুলিশের জিম্মায়।

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, এ ঘটনা তো হওয়ারই ছিল। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে দেশদ্রোহের তকমা দিচ্ছে মোদি সরকার। একজন কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর স্লোগান– সেই প্রতিবাদীদের গুলি করতে।

জামিয়ার এক শিক্ষার্থী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নিয়ন্ত্রণাধীন এই পুলিশই তাণ্ডব চালিয়েছিল আমাদের লাইব্রেরিতে।

দিল্লি পুলিশের ডিসিপি চিন্ময় বিশালের দাবি, শাহিন বাগ ও জামিয়ার প্রতিবাদকারীদের বেশ কিছু দিন ধরেই আমরা সাবধান করছি যে, তাদের ভিড়ে মিশেই অপকর্ম ঘটাতে পারে কোনো দুষ্কৃতকারী। এদিন ওই কিশোর বন্দুক হাতে বেরিয়ে এসেছে মিছিল থেকেই। যত দ্রুত সম্ভব তাকে কব্জা করেছে পুলিশ।

যদিও ছবিতে দেখা গেছে, প্রায় পুরো সময়টাই নিষ্ক্রিয় ছিল পুলিশ। অভিযুক্ত তাদের নাগালে যাওয়ার পর তাকে পাকড়াও করে পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের টুইট– এ ঘটনা সমর্থনযোগ্য নয়। এ নিয়ে দিল্লির পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথাও বলেছি।

Comments

comments