করোনাভাইরাসের বিভীষিকা: পড়ে আছে লাশ, যে যার মতো ছুটছে

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া উহানে মুখে মাস্ক, হাতে প্লাস্টিকের বাজারব্যাগ নিয়ে সাদা চুলের এক বৃদ্ধ মরে পড়ে আছেন। ভুলেও তার কাছে কেউ যাচ্ছেন না। নিজেদের মতো গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন পথচারীরা।

শহরটির গ্রাউন্ড জিরোতে সড়কের পাশে একটি দোকানের সামনে এমন ভীতিকর দৃশ্য দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা যখন এমন ঘটনা দেখছেন, তার কিছুক্ষণ পর নিরাপদ পোশাকে পুরো শরীর ঢাকা চিকিৎসাকর্মীরা এসে সেখানে উপস্থিত হন। রাস্তায় পড়ে থাকা লোকটি মারা গেছেন কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন।

পরে পচননাশক ছিটিয়ে মৃতদেহটি হলুদ ব্যাগে ভরে জায়গাটি পরিষ্কার করে রেখে চলে যান তারা।

মাও টুপি পরা এক নারী পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, লোকটি করোনাভাইরাসে মারা গেছে বলেই আমার ধারণা।

এদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ঘটনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের চীন ভ্রমণে বারণ করেছে।

ইতিমধ্যে এ ভাইরাসে শুক্রবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৩ জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজারের মতো।-খবর এএফপির

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। এখন পর্যন্ত ২০ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই মহামারী। সেই প্রেক্ষাপটে নাগরিকরা যাতে চীন ভ্রণে না যান, সেই নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে জেনেভায় সংকটকালীন আলোচনা শেষে ঝুঁকি মূল্যায়ন পুনর্বিবেচনা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। শুরুর থেকে করোনাভাইরাসের হুমকি হালকা করে দেখায় সমালোচনার শিকার হয়েছে এই সংস্থাটিকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেডরোস আডহানোম গেবরিয়াসুস বলেন, দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দেশগুলোতে এ ভাইরাস ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। এটির বিস্তার যাতে আর ঘটতে না পারে, সে জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কেবল সবাই একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে এটিকে বন্ধ করতে পারব।

নতুন ধরনের এ করোনাভাইরাস বিভিন্ন দেশে ছড়িয়েছে; প্রথমত চীনফেরত ব্যক্তিদের মাধ্যমে। কিন্তু জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ভিয়েতনামে আটজন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যারা কখনও চীনে যাননি।

অর্থাৎ সেখানে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে শুরু করেছে এ ভাইরাস।

যেসব দেশে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে দুর্বল, সেসব দেশে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ শুরু হলে পরিস্থিতি কী হবে- মূল সেই ভাবনা থেকেই বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

চীনে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা একদিনেই ১৭০ থেকে বেড়ে হয়েছে ২১৩ জন। নতুন করে দুই হাজার মানুষের দেহে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, কেবল চীনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন।

Comments

comments