অপহরণের পর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করল পুলিশ

রাজধানীর সূত্রাপুরের লাল কুটি এলাকা থেকে মো. সোহেল নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর ‘ক্রসফায়ারের’ ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) সাত সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার।

তিনি বলেন, একজন ব্যবসায়ীকে হয়রানির লিখিত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে।

ব্যবসায়ী সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন।

তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, তার বাড়ি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নাজিরাবাগ গ্রামে। ২৯ জানুয়ারি আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদরঘাট এলাকা থেকে ব্যবহারের জন্য দুটি লুঙ্গি কিনে বাসায় ফেরার পথে সূত্রাপুর থানাধীন লালকুটির নৌকাঘাটে যান। সেখানে নৌকায় ওঠার আগেই পাঁচ-ছয়জন লোক এসে আমার চারপাশে ঘিরে ফেলে। তারা কেরানীগঞ্জ ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে আমার হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে নৌকায় তুলে বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে কেরানীগঞ্জ আলম মার্কেটের সামনের রাস্তায় নিয়ে নম্বর প্লেটবিহীন একটি সাদা মাইক্রো গাড়িতে তোলে। কালো রঙ্গের কাপড় দিয়ে আমার চোখ বেঁধে ফেলে। এরপর তারা মাইক্রো চালিয়ে আমাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমার হাতের আঙুলগুলো প্লাস দিয়ে চাপ দেয়। এতে জখম হয়ে যায়। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পেটায়। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র আমার মাথায় ঠেকিয়ে ক্রস ফায়ার ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখায়।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, এরপর আমার মুক্তিপণ হিসাবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। তারা নির্যাতন করে আমার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের নম্বর দিয়ে পরিবারের কাছে থাকা মোবাইল ফোনে ফোন করে মুক্তিপণের টাকা চাইতে থাকে। টাকা দিলে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানায়।

তিনি জানান, এরপর আমার স্ত্রী, বোন ও ছেলের বউ তাদের কথামত টাকা নিয়ে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ মোড়ে যায়। সেখানে রিসিভ না করে আবার বসিলা ব্রিজের কাছে যেতে বলে। বসিলা ব্রিজে যাওয়ার পর আমার পরিবারের তিনজনকে সাড়ে চার লাখ টাকাসহ ওই মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। একপর্যায়ে টাকা নেওয়ার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমাদের বিভিন্ন কাগজে সাক্ষর নিয়েও তাদের মোবাইল ফোনে তাদের শিখিয়ে দেওয়া কথাবার্তা ধারণ করে রেখে দেয়।

সোহেলের স্ত্রী ছবিনা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, টাকা নিয়ে তারা আমাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেয়। হুমকি দিয়ে বলে, ভবিষ্যতে এসব বিষয় যদি কারো কাছে প্রকাশ করি, তাহলে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হবে। অথবা ধরে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে।

সোহেল জানান, ডিবি পুলিশ পরিচয় দানকারীদের দেখলে চিনব। তাদের নিজেদের ভেতরে ডাকাডাকির কারণে একজনের নাম রাজিব বলে জানতে পেরেছি।

Comments

comments