অসুস্থ শিশুটিকেও ছাড়ছে না ফেসবুকের দুর্বৃত্তরা

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগযোগের মাধ্যমে অর্থ জোগাড় করতে মরিয়া চেষ্টা চালায় সাইবার দুর্বৃত্তরা। এ ক্ষেত্রে মানুষের দুর্বলতার বিভিন্ন দিক কাজে লাগায় তারা। এ ছাড়া মানুষের সহানুভূতি কাজে লাগিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এমনকি ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওরসেসটারের পাঁচ বছর বয়সী শিশু অস্কার স্যাক্সেলবি-লির ক্ষেত্রে।

সিঙ্গাপুরে সিএআর-টি থেরাপি চিকিৎসা চলছে অস্কারের। রক্তাল্পতায় (লিউকোমিয়া) ভুগতে থাকা ওই শিশুটির মা বলছেন, তার ছেলের ছবি নিয়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে তৈরি করা ভুয়া প্রোফাইলগুলোর কারণে তিনি বিরক্ত। তাঁর পরিবার শিশুটির চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে, অস্কারের চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর তার ছবি নিয়ে প্রতারণা শুরু করেছেন সাইবার দুর্বৃত্তরা।

অস্কারের মায়ের অভিযোগ, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অস্কারের নামে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে মানুষের কাছে অর্থ সাহায্য চাওয়া হচ্ছে। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফেসবুকের পক্ষ থেকেই ওই পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলার কথাও বলা হয়েছে।

অস্কারের মা অলিভিয়া স্যাক্সেলভি বলেছেন, এ ধরনের ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা হতে পারে তিনি না বিশ্বাস করতেই পারছেন না। এটা জঘন্য, আমি ক্ষুব্ধ। তারা অস্কারের নাম বদলে ফেলে কিছুটা গল্প বানিয়েছে। এটা বিশ্বাস করার মতো নয়। এ মানুষগুলো অনুভূতিহীন।

অস্কারের ছবি ব্যবহার করে তৈরি হওয়া বেশ কিছু ভুয়া প্রোফাইল ও পোস্ট দেখেছে তার পরিবারের সদস্যরা। গত সপ্তাহে অস্কারের ভুয়া প্রোফাইলের সঙ্গে তার মায়ের ভুয়া প্রোফাইলেরও সন্ধান পান তাঁরা।

সিলভিয়া বলেন, ‘আমি তাদের থামাতে টাই। এটা শুধু অন্যায় নয় এটা আঘাত দেওয়ার মতো বিষয়।’

ভুয়া পোস্টগুলো সম্পর্কে ফেসবুককে অবহিত করেছে তারা। তবে ফেসবুক এ ক্ষেত্রে দ্রুত সাড়া দেয়নি।

ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ফেসবুকে নকল বা প্রতারণা করার অনুমতি নেই এবং আমরা দুঃখিত যে, অস্কার স্যাক্সেলবি-লির পরিবারকে এই বিরক্তিকর পোস্টগুলো দেখতে হয়েছিল। আমরা বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট বাতিল করেছি বাকি অ্যাকাউন্টগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Comments

comments