ছাগলে জিলাপি খাওয়ার রেশ ধরে চাচির হাত ভাঙলেন ভাতিজা, আতঙ্কে চাচার মৃত্যু!

যশোরের চৌগাছায় ছাগলে জিলাপি খাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে পিটিয়ে চাচির (৫৫) হাত ভেঙে দিয়েছেন ভাতিজা। এ সময় স্ট্রোক করে মারা গেছেন চাচা অসুস্থ আজগর আলী (৬৫)। মৃত আজগর আলী উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের পাশাপোল গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটলেও রবিবার দুপুরে মৃতের লাশ দাফনের সময় বিষয়টি প্রকাশ পায়।

পরে দশপাকিয়া ফাড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে দুপুর ২টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব দশপাকিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন, মৃতের পরিবার ও স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আজগর আলী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। শনিবার রাতে ছাগলে জিলাপি খাওয়াকে কেন্দ্র করে ভাতিজা তপন তার স্ত্রীকে মারধর করলে স্ত্রীর হাতে চোট লাগে। এসময় আতঙ্কে স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরো বলেন, পুলিশ সুপারের সাথে পরামর্শ করে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

আজগর আলীর স্ত্রী চায়না বেগম বলেন, শনিবার বিকেলে গ্রামের একটি মিলাদ মাহফিল থেকে জিলাপি এনে রাখে তার ভাসুর মোজাফর রহমানের ছোট ছেলে তপন (৩৫)। এরপর কোনো এক সময় তাদের একটি ছাগলে ওই জিলাপি খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে রাত আটটার দিকে তপন আমাদের ঘরে এসে আমাকে মারপিট করে। তিনি হাতে ব্যান্ডেজ দেখিয়ে বলেন এসময় আমি হাতে আঘাত পাই। এসময় আমার স্বামী আতঙ্কে খাট থেকে পড়ে যায়। এর পরপরই তার মৃত্যু হয়। তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী প্রায় ৮ বছর ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় বিছানাধারী হয়ে ছিল। তার লিভারেও পানি জমে গিয়েছিল বলে ডাক্তাররা বলেছেন।

স্থানীয় পাশাপোল ইউপি চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ বলেন, আজগর আলী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তার ভাতিজা মারপিট করে চাচির হাত ভেঙে দেয়ায় গ্রামের লোকজন সালিশ-মীমাংসা করা হয়। আহত চাচির পরিবারটি খুবই গরিব ও অসচ্ছল হওয়ায় অসুস্থ চাচির চিকিৎসার জন্য এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে পুলিশ সুপার পর্যন্ত গড়ায়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।

Comments

comments