ফের দূষিত বাতাসের শীর্ষে ঢাকা, করোনা ভাইরাসের চেয়েও মারাত্মক বায়ুদূষণ

দিন দিন বিষাক্ত হয়ে উঠছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের বায়ু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ায় প্রতি তিনজনের দুইজনই মারা যায় বায়ু দূষণজনিত রোগে। মারাত্মক বায়ুদূষণের কারণে রবিবার সকালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ফের শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে।

আজ রোববার সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ঢাকার স্কোর ছিল ২৫৮, যার অর্থ হচ্ছে এ শহরের বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষণ রোধে সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অসুস্থ জাতি হিসেবে বেড়ে উঠবে। তারা বলছেন, করোনা কিংবা ডেঙ্গুর চেয়ে বায়ুদূষণ বাংলাদেশের জন্য শতগুণ বেশি হুমকি।

খোলা আকাশে কুন্ডলি পেচিয়ে উড়ছে অসংখ্য ইটভাটা আর শিল্প কলকারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নির্মাণ কাজ, পোড়া বর্জ্য আর রাস্তার দূষিত ধুলা। যা প্রতিনিয়ত গ্রহণ করছে নগরবাসি।

গবেষকরা বলছেন, শুধু ঢাকা নয় এখন পুরো দেশই বায়ুদূষণের সর্বোচ্চ হুমকিতে রয়েছে। এসবের প্রভাবে প্রতি বছর শুধু বাংলাদেশেই পৌনে দুই লাখ লোক মারা যাচ্ছে বলে তথ্য দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, বায়ু মান সূচক শুন্য থেকে পঞ্চাশ পর্যন্ত আদর্শ হলেও গত কয়েক বছরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বেশীর সময়ই তা ছিলো ২০০ থেকে প্রায় ৫০০ পর্যন্ত।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে ৬৯০ দিনের মধ্যে মাত্র ১১ দিন বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহণ করেছে ঢাকাবাসী। তারা বলছেন, বিষয়টি যেহেতু সিদ্ধান্তের তাই সরকারিভাবে বায়ূদূষণ রোধে পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বাংলাদেশের বায়ু দূষণের মাত্রা করোনা ভাইরাস থেকেও মারাত্মক।

শ্বাসতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ এতোটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যা মাস্ক দিয়ে আর প্রতিরোধ সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার চেয়ে এখন দেশের বায়ুদূষণ রোধ বেশী জরুরী বলে মনে করেন তারা।

শ্বাসতন্ত্র বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, বায়ু দূষণে নানারকম অসুখ হয়। এতো ধরণের অসুখের প্রতিরোধ তো সম্ভব নয়। একটা অসুস্থ জাতি গড়ে উঠবে এর ফলে।

ক্যাপস এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশে শীতকালে আদর্শ বায়ু মানের চেয়ে প্রায় ১২ গুণ ও বর্ষাকালে তা বেশী ছিলো প্রায় ২ গুণ।

Comments

comments