ভারতকে গুঁড়িয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতল বাংলাদেশ

দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার এরপর নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বাংলাদেশের কাছে ফাইনালে হারল ভারত। এরই মধ্যে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ ছিনিয়ে আনলো বাংলাদেশের যুবদল।

শুরুটা দারুণই হয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দলের। দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন আর তানজীদ হাসান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই রান তাড়ার ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন। বাঁ হাতি পারভেজের সঙ্গে ডান হাতি তানজীদ ভারতীয় বোলারদের খেলছিলেন উইকেটের চারদিকেই। কিন্তু রবি বিষনয়ের লেগ স্পিনের দৃশ্যত এলোমেলো বাংলাদেশের রান তাড়া। ৫০ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙার পর বিষনয় তুলে নেন আরও ৩ উইকেট। টপ অর্ডারের ইনফর্ম ব্যাটসম্যানদের হারিয়ে ১৭৮ রানটাকেও অনেক বড় মনে হচ্ছে বাংলাদেশের যুবাদের। এ প্রতিবেদন লেখার সময় জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন আরও ৬৮ রান। ২৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১১০ রান করেছে বাংলাদেশ।

বিষনয় রীতিমতো কাল হয়েই এসেছেন বাংলাদেশের যুবাদের সামনে। এখনো পর্যন্ত ৪ ওভার বোলিং করে ১১ রান দিয়ে তিনি তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তানজীদের পর বিষনয় তুলে নিয়েছেন ইনফর্ম মাহমুদুল হাসান, তৌহিদ হৃদয় আর শাহদাত হোসেনকে। সুশান্ত মিশ্র নিয়েছেন ২ উইকেট।

এর আগে যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ৪৭.২ ওভারে ১৭৭ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত। বাংলাদেশের পক্ষে ৩ উইকেট অভিষেক দাসের। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান।

বোলিংটা আজ দুর্দান্ত করেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বোলাররা। শরিফুল ইসলাম শুরু করেছিলেন। তানজীম হাসান সাকিব, অভিষেক দাস, রকিবুল হাসান, শামীম হোসেন—সবাই ছিলেন দারুণ। প্রথম ৩৬ ওভারের মধ্যে ১২৫ বলে কোনো রান দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। এবারের যুব বিশ্বকাপের সবচেয়ে সেরা ব্যাটিং–লাইনআপকে ২১ ওভার কোনো রান করতে না দেওয়া কিন্তু সহজ কোনো বিষয় নয়। বোলিংয়ের সঙ্গে ফিল্ডিংটাও ছিল দুর্দান্ত। ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা সত্যিকার অর্থে সুযোগই পাননি হাত খুলে খেলার।

ওপেনার যশস্বী জয়সোয়াল একাই লড়ে যাচ্ছিলেন এক দিক ধরে রেখে। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের আঁটসাঁট বোলিংয়ের মধ্যেও তিনি খেলেছেন নিজের খেলাটাই। এবারের যুব বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান তিনি। ব্যক্তিগত ৮৮ রানে তাঁকে তানজীদ হাসানের ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। এই শরিফ ১০ ওভার বোলিং করে ৩১ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। যশস্বী জয়সোয়াল ফিরেছেন ১২১ বলে ৮৮ রান করে। ভারতের পক্ষে দ্বিতীয় সেরা সংগ্রহ তিলক ভার্মার। তিনি ৬৫ বলে করেছেন ৩৮। জয়সোয়াল যখন ফেরেন, তখন ভারতীয় দলের সংগ্রহ ১৫৬/৩। তারা শেষ ৭ উইকেট হারায় মাত্র ২১ রানে।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্য শরিফুল ছাড়াও দুর্দান্ত ছিলেন তানজীম হাসান। ৮.২ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। নিজের প্রথম দুই ওভারই মেডেন দিয়ে শুরু করেছিলেন তিনি। অভিষেক দাস উইকেটের দিক দিয়ে সবচেয়ে সফল। তিনি ৪০ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। বাঁ হাতি স্পিনার রকিবুল হাসান নিয়েছেন এক উইকেট।

উল্লেখ্য এরআগে অস্ট্রেলিয়ার কাছে নিজের মাটিতে হেরে যায় ভারত। ‍শুধু তাই নয় এরপর বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলকে গুঁড়িয়ে দিয়ে এক ম্যাচ আগেই ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। টানা দুই ম্যাচ জয়ে ট্রফি নিজেদের করে নেয় কিইউরা।

Comments

comments