ছাত্রলীগের তান্ডবে আইআইইউসিতে রাজনীতি নিষিদ্ধ করলো কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (আইআইইউসি) সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আজ (১০ ফেব্রুয়ারি) সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পক্ষে এ ঘোষণা পাঠ করে শুনান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কর্ণেল মোহাম্মাদ কাশেম পিএসসি (অবসরপ্রাপ্ত)।

ওই সম্মেলনে ২০১৯ সালের ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে চাইলে সরকার কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের বরাত দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর ধারা ১৮ এবং ধারা ৩৭ অনুযায়ী বিগত ২২৯ সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে আজ হতে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) ক্যাম্পাসে র‌্যাগিং ও সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং, নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উসমান (রা.) হলের ছাত্র আদনানকে শিবির আখ্যা দিয়ে মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে শিক্ষকেরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।

এ ঘটনার জেরে ২৯ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা এবং ছাত্রদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে ফেল করা ছাত্রকে পাশ করিয়ে দেয়া, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিকট চাঁদা দাবি করা এবং পরীক্ষার হলে অনৈতিক দাবি না রাখায় শিক্ষকবৃন্দকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হেনস্থা করা, হুমকি দেয়া, অফিস কক্ষ ভাংচুর করা, শিক্ষকদের বাসভবনে বিশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন রকম অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলো ছাত্রলীগ।

এছাড়া রেজিস্ট্রেশনবিহীন অবৈধ অবস্থান, বহিরাগতদের আশ্রয় প্রদান, হল প্রশাসনের সাথে অসহযোগীতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ, ডাইনিং এ ফ্রি খাওয়া, ডাইনিং ম্যানেজারের নিকট হতে জোরপূর্বক টাকা ছিনতাই ইত্যাদি। এছাড়া র‌্যাগিং এর নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং নেশাজাতীয় দ্রব্যের বহুল ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ ও রয়েছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

Comments

comments