ভাতিজির বান্ধবীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করলো ছাত্রলীগ নেতা

এবার এক কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে ধর্ষণ করেছে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বনি আমিন। ওই কলেজ ছাত্রী তার ভাইয়ের মেয়ের সাথে একই কলেজে পড়াশুনা করতো। এ ঘটনার পর সংগঠন থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয় ছাত্রলীগ নেতাকে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক। এর আগে রোববার রাতে বরিশাল মহানগর পুলিশ এয়ারপোর্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কলেজ ছাত্রীর মা। সোমবার রাতে ঝালকাঠী থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

তবে পালিয়েছে বরিশাল সদরের গণপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা বনি আমিন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইস্যু ক্লাক’ পদে কর্মরত বনি আমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণী কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি।

অপহরণের শিকার ছাত্রী ও তার পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বনি আমিনের ভাইয়ের মেয়ের সাথে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে একই সাথে পড়াশুনা করেন উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা ওই ছাত্রী। এর ফলে একে অন্যের বাড়িতে আসা যাওয়া ছিল উভয়ের।

ভাতিজির বান্ধবীর উপর কু-দৃষ্টি পড়ে ২ সন্তানের জনক বনি আমিনের। নানা সময় তাকে কু-প্রস্তাবও দিত সে। কিন্তু কিশোরী ছাত্রী রাজি না হওয়ায় তাকে অপহরণের পরিকল্পনা করে বনি আমিন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার কলেজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে প্রাইভেটকারে করে ছাত্রীকে অপহরণ করে সে। রাতে পর্যটন এলাকা পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

এদিকে, ছাত্রীর মা থানায় অভিযোগ দিলে গ্রেফতার এড়াতে সোমবার ঝালকাঠীতে এক নিকট আত্মীয়ের বাসায় ওই কিশোরীকে রেখে পালিয়ে যায় বনি আমিন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) ফয়সাল আহমেদ জানান, অপহরণের শিকার কলেজ ছাত্রী ধর্ষণের বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জবানবন্দির জন্য বুধবার তাকে আদালতে নেয়া হবে বলে জানান ওসি ফয়সাল। এছাড়া বনি আমিনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

Comments

comments