বিভিন্ন অপকর্মের হোতা সেই ছাত্রলীগ নেতা এবার ইয়াবাসহ গ্রেফতার

নির্বাচনের দিন রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় দুই সাংবাদিকের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তাদের আটক রাখাসহ ভয়-ভীতি প্রদর্শনকারী সেই ছাত্রলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম খান রিয়াদকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রবিবার সকালে কবি নজরুল সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সূত্রাপুর থানা পুলিশ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী।

রিয়াদ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি ছিলেন। নির্বাচনের দিন ওই ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এর আগে নির্বাচনের দিন রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় দুই সাংবাদিকের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তাদের আটক রাখাসহ ভয়ভীতি প্রদর্শনকরার পর তার অপরাধ-অপকর্মের নানা কাহিনি বেরিয়ে আসতে শুরু করে।  অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে মাত্র পাঁচ বছরে অর্থবিত্তে প্রতাপশালী হয়ে ওঠে রিয়াদরাই এখন স্থানীয় রাজনীতির নেপথ্য নিয়ন্ত্রক। ভারতীয় খুদে অস্ত্র চোরাচালানের মাধ্যমে এনে তা কিস্তিতে বাজারজাত করছে রিয়াদ সিন্ডিকেট। এ রমরমা বাণিজ্য বহাল রাখতে তিনি ওয়ারী জোনের দুই এসি, চার ওসিসহ অন্তত ১০ পুলিশ কর্মকর্তাকে মাসোহারা দেন, আজ্ঞাবহ রাখেন। তার অস্ত্র ব্যবসার আদ্যোপান্ত জেনে ২০১৭ সাল থেকেই ডিবি পিছু লাগে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অদ্যাবধি বহাল তবিয়তে রয়েছেন রিয়াদ।

গেন্ডারিয়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান ওরফে রিয়াদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগে পুলিশের বাদী হওয়া একটি মামলারও সন্ধান পাওয়া যায় মতিঝিল থানায়। ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পিস্তল, গুলিসহ কমলাপুর বাজার রোডে দুই যুবককে আটকের সূত্র ধরে রিয়াদের অস্ত্র ব্যবসায় জড়িত থাকার তথ্য পায় পুলিশ। পরদিন আটক দুই যুবকসহ রিয়াদকেও আসামি করে মতিঝিল থানায় মামলাটি রুজু হয়।

মামলাসূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে ২১ ফেব্রুয়ারি কমলাপুর বাজার রোডের আনার বেকারির পশ্চিম পাশে অস্ত্র কেনাবেচা হবে। সে অনুযায়ী দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ওই এলাকায় গেলে দুই যুবক পালানোর চেষ্টা করতেই পুলিশ তাদের আটক করে। আটক দুজন হলেন নাহিদুল ইসলাম (৩০) ও নাজমুল হোসেন ওরফে নোমান (২৯)। তাদের তল্লাশি করে নাহিদুল ইসলামের হাতে থাকা খাকি রঙের একটি শপিং ব্যাগে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুটি গুলি পাওয়া যায়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যানুসারে নোমানের মতিঝিলের কবি জসীমউদ্দীন রোডের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও দুটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নোমান পুলিশকে জানান, স্থানীয় বড় ভাই কামরুল ইসলাম (২৯) ও রিয়াদ (২৮) বিক্রির জন্য তার কাছে অস্ত্র ও গুলিগুলো রাখতে বলেছিলেন।

২২ ফেব্রুয়ারি নাহিদ, নোমান, কামরুল ও রিয়াদকে আসামি করে অস্ত্র আইনে মামলা হয়। মামলার এজাহারে প্রথম তিন আসামির পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা দেওয়া হলেও রিয়াদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা দেওয়া হয়নি। তবে রিয়াদের নামের সঙ্গে তার মোবাইল নম্বর দেওয়া ছিল। এই নম্বর ধরে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে রিয়াদের পুরো নাম শহিদুল ইসলাম খান। তিনি গেন্ডারিয়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি। অন্য আসামি কামরুল ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক বলে জানিয়েছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম আকন্দ। তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারের পর নাহিদ ও নোমানকে তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দুজনই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা বলেছেন, অস্ত্র ও গুলিগুলো কামরুল ও রিয়াদের কাছ থেকে পেয়েছেন।

Comments

comments