নতুন অস্ত্র পরখ করতে গিয়ে কর্মীর বুকে যুবলীগ নেতার গুলি

নতুন অস্ত্র পরখ করে দেখা তাঁর শখ। এ রকম একটি অস্ত্র দিয়ে কীভাবে গুলি করতে হয়, দুটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে দেখান কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। আরেকটি ছোড়ার সময় যুবলীগ কর্মীর বুকের বাঁ পাশে ঢুকে বেরিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই কর্মী। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তে এসব তথ্য উঠে আসে। এ ঘটনা সাড়ে তিন বছর আগের।

চলতি মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম আদালতে এই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌফিক আহমেদ চৌধুরীকে অভিযুক্ত করা হয়। তিনি প্রয়াত নগর আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এবারের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন তৌফিক। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির আরও দুটি মামলা রয়েছে।

২০১৬ সালের ৫ মে রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারহাট বাজারে গুলিতে নিহত হন স্থানীয় যুবলীগ কর্মী নুরে এলাহী। এই ঘটনায় তাঁর মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি হাটহাজারী থানার পুলিশ তদন্ত করে। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২০১৮ সালের জুলাই মাসে তদন্ত করে কাউন্সিলর তৌফিককে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। বাদী নারাজি আবেদন করলে আদালত সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

তদন্ত শেষে সিআইডি চট্টগ্রামের পরিদর্শক মুহাম্মদ শরীফ আদালতে কাউন্সিলর তৌফিককে আসামি করে চার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেন। এতেও বলা হয়, হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল আফছারের নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে সরকারহাট বাজারে নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে নুরে এলাহীর গায়ে গুলি লাগে। ওই দিন রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান নুরে এলাহী।

অভিযোগপত্রে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৪৮ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।

জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ঘটনার সময় আওয়ামী লীগ নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল আফছার ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে পশ্চিম মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুরুব্বিদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। তদন্ত ও সাক্ষ্যে উঠে এসেছে তৌফিকের গুলিতেই মৃত্যু হয়। ঘটনায় ব্যবহৃত ৭ দশমিক ৬৫ বোরের পিস্তলটি উদ্ধার করা যায়নি।

এই মামলায় জামিনে থাকা কাউন্সিলর তৌফিকের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা কোর্ট পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জি বলেন, মামলার ধার্য দিনে হাজির না থাকায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এটি থানায় পাঠানো হয়েছে। হাটহাজারী থানার ওসি মাসুদ আলম জানান, গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

গুলি করার ঘটনায় জড়িত নন দাবি করেন কাউন্সিলর তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা গুলি করেছে তাদের নাম বাদ যাওয়ায় বাদী নারাজি দিয়েছেন। রাজনৈতিক কারণে ষড়যন্ত্রের শিকার আমি।’

Comments

comments