মাকে ধর্ষণের দুই বছর পর মেয়েকে গণধর্ষণ করলো আ.লীগ নেতা

সম্প্রতি ভোলার দৌলতখান উপজেলায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গণধর্ষণ করছে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান ও তার সহকর্মীরা। ২০১৮ সালের একই ব্যাক্তির কাছে গণধর্ষণে স্বীকার হয় ঐ এসএসসি পরীক্ষার্থীর মা।

জানা যায়, গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে তুলে নিয়ে যায় আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াসিন লিটন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এরপর মেয়ের মা থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে।

ঘটনার এক সপ্তাহ পরেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। দেখা গেছে, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করলেও অভিযুক্তর পরিবারের কোন মামলা নিচ্ছে না।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষার্থীর মা তাসলিমাকেও গণধর্ষণ করে এই আওয়ামী লীগ নেতা। প্রতিদিনের মত আদালতের কাজ সেরে বাংলাবাজার থেকে বাসার জন্য বাজার-সদাই করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মধ্য জয়নগর কাজীর রাস্তা দিয়ে বাড়ীতে যাচ্ছিল। ওই মহুর্তে তাসলিমা কাজী বাড়ীর সামনে গেলে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা একটি লিটনের দল প্রথমে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুখ বেঁধে নিয়ে যায়। এরপর মহাসিন, নোমান, কালা লিটন, নুরুদ্দিন, ছালাউদ্দিন, শাহিন ও শেখ কামালসহ অজ্ঞত আরো ২/৩জন তাসলিমাকে মহাসিনের ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ধর্ষন করে।

এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল ভোলা জেলা দ্বায়রা জজ ও নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে মামলা করে মেয়ে মুন্নি আক্তার। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় মামলা উঠিয়ে নেয়ার তাকে হুমকি দিতে থাকে লিটন। কিন্তু মামলা উঠিয়ে নিতে রাজি হয়নি মেয়ে মুন্নি।

এরপর গত ২৫ জানুয়ারি মামলার একজন আসমীকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করলে এবার তাকেও ধর্ষণের হুমকি দেয় লিটন। অবশেষে আবারো ধর্ষণের পথ বেছে নেয় আওয়ামী লীগের এই চেয়ারম্যান।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে এই চেয়ারম্যান ইয়াছিন লিটনের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হন ভিকটিমের মা এবং সেই সময় মুন্নী নিজে বাদী হয়ে মায়ের ধর্ষণ মামলা করেন। তারপর থেকে চেয়ারম্যান ও তার দলবল নানা ভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে মামলা তুলে নিতে। কিন্তু মামলা তুলে নেয়নি মুন্নি। গত ২৫ জানুয়ারী সেই মামলার একজন আসামীকে পুলিশ ধরলে চেয়ারম্যান চটে গিয়ে দলবল নিয়ে মুন্নিকেও তুলে নিয়ে গণ-ধর্ষণ করেন। মুন্নিকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে মুন্নী ও তার মায়ের শিকারোক্তীর লাইভ ভিডিও ধারণ করেন বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক ইউনিটির একজন সদস্য এবং ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

Comments

comments