১ম নয় ৪র্থ দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু করেছে বাংলাদেশ!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ই-পাসপোর্ট চালু করায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নয় বরং চতুর্থ দেশ হিসেবে ডিজিটাল সুবিধা সম্বলিত ই-পাসপোর্ট চালু করেছে বাংলাদেশ।

উইকিপিডিয়ার তথ্য বলছে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বপ্রথম ই-পাসপোর্ট চালু করে পাকিস্তান। ২০০৪ সালে পাকিস্তান প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু হয়। এরপর ই-পাসপোর্ট চালু করে আফগানিস্ততান। এরপর ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ই পাসপোর্ট চালু করে আফগানিস্তান। এছাড়া ২০১৬ সালে ই-পাসপোর্ট চলু করে মালদ্বীপ।

ই-পাসপোর্ট নামটি বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভিন্ন নামে পরিচিত। অনেক দেশে বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট বা ডিজিটাল পাসপোর্ট নামেও প্রচলিত রয়েছে। ই-পাসপোর্টের চিপে পাসপোর্টধারীর বায়োগ্রাফি ও বায়োমেট্রিক তথ্যাদি সিল্ড অবস্থায় সুরক্ষিত থাকে। ডিজিটাল সিগনেচার প্রযুক্তির সাহায্যে ই-গেটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ সেকেন্ডে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পাসপোর্টধারীর প্রকৃত তথ্য ও ফেসিয়াল রিকগনিশন যাচাই করা সম্ভব।

নানা জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে ই-পাসপোর্ট (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট)। গত ২২ জানুয়ারি ই-পাসপোর্ট সেবার উদ্বোধন করেন ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ই-পাসপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হয়। ২০১৯ এর ডিসেম্বরে উদ্বোধন করার কথা থাকলেও ব্যর্থ হয় সরকার।

সার্কভুক্ত দেশ পাকিস্তান, ভারত,মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে বেশিরভাগ দেশেই বায়োমেট্রিক (ই-পাসপোর্ট) পাসপোর্ট চালু রয়েছে।

প্রথম ই- পাসপোর্ট চালু করে পাকিস্তান। ২০০৪ সালে বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট চালু করে। কিন্তু এটি ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। কারণ ই-পাসপোর্টের ভেতরে এক ধরনের চিপ থাকে যা ওই পাসপোর্টে ছিল না। ২০১২ সালে আইসিএও-এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বহুমাত্রিক বায়োমেট্রিক ই-পাসপোর্ট চালু করে পাকিস্তান।

এরপর আফগানিস্তানে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে দুই ধরনের ই-পাসপোর্ট (বায়োমেট্রিক) ইস্যু করা হয়। একটি হচ্ছে আফগান কূটনীতিকদের জন্য অপরটি সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য। ২০১৩ সালের মার্চে জনসাধারণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ই-পাসপোর্ট চালু হয় দেশটিতে।

এছাড়া মালদ্বীপে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি ই-পাসপোর্ট চালু হয়। বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত বায়োমেট্রিক পাসপোর্টের মধ্যে এটি অন্যতম। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আধুনিক ও বাস্তবধর্মী বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট হচ্ছে মালদ্বীপের।

এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১১৮টি দেশে ই-পাসপোর্ট চালু রয়েছে। বাংলাদেশ ১১৯তম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু করলো। ই-পাসপোর্ট মূলত ৪৮ ও ৬৪ পাতার। এ ধরনের পাসপোর্ট তিন ধরনের হয়- ‘অতি জরুরি’, ‘জরুরি’ ও ‘সাধারণ’। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ই-পাসপোর্ট চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। এর আগে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট চালু হয়।

ভারতে এখনও ই-পাসপোর্ট চালু হয়নি। এছাড়া নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান এখনও ই-পাসপোর্ট চালু করতে পারেনি।

Comments

comments