এবার প্রবাসীদের কুলাঙ্গার বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রবাসীদের সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, দেশে ফিরে বলেন, বাংলাদেশের আইন মানি না, কোয়ারান্টাইনে থাকবেন না৷ আমি মনে করি, এই গুটিকয় প্রবাসী কুলাঙ্গার।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চ ভেলের এক সাক্ষাৎকারে কোয়ারান্টাইনে যেখানে তাদের রাখা হচ্ছে, সেটা স্বাস্থ্যসম্মত কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ইটালি থেকে ১৪২ জন এসেছেন৷ যেখানে আমরা বন্ধ করে দিয়েছি৷ ইটালির রাষ্ট্রদূত আমাদের জানিয়েছেন, ইটালির নিয়মে বাসা থেকে বের হওয়া বেআইনি৷ কেউ বের হলে তাকে ২০৬ ইউরো জরিমানা দিতে হয়৷ জেলও হয়৷ তিনি বলেছেন, এদের যদি নাম-ঠিকানা দেওয়া হয়, তাহলে তারা শাস্তি দেবেন৷ দেশে ফেরার পর তাদের কোয়ারান্টাইনে রাখতে একটা ক্যাম্পে নিয়ে গেছি৷ তাদের সেটা পছন্দ হয়নি৷

তিনি বলেন, এখানে আগেও ৩১২ জনকে রেখেছি৷ কিন্তু তারা এসে প্রথমেই বলেছে, তারা ইটালি থেকে এসেছেন, তারা আমাদের আইন মানেন না৷ কোয়ারান্টাইনে থাকবেন না৷ এখানকার ব্যবস্থা খুবই খারাপ৷ বড় বড় হোটেলে থাকতে চান৷ আমরা আমাদের বেস্ট খাবার, পর্যটন কর্পোরেশন থেকে খাবার তাদের দিয়েছি, তারা এটা খাবেন না৷ তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যারা আমাদের খাবার খাবেন না, তারা নিজেদের পয়সায় যে কোনো জায়গা থেকে খাবার কিনে এনে খেতে পারবেন৷ যখন তারা এলো, তাদের মধ্যে গুটিকয়েক লোক ছিল, তাদের ব্যবহার ছিল খুবই উচ্ছৃঙ্খল৷ এমনিই করোনা ভাইরাসের কথা শুনলে লোকজন কাছে যায় না৷ এর মধ্যে ওখানে যারা সহায়ক ছিলেন, তাদের তারা গালিগালাজ করেছেন, মারধরও করেছেন৷ কিছু সংখ্যক প্রবাসী, প্রবাসীদের বদনাম করছেন৷

তিনি আরও বলেন, আমি ৩৮ বছর বিদেশে প্রবাসী হিসেবে ছিলাম৷ কিন্তু আমরা কখনোই বিদেশেও আইন অমান্য করিনি৷ এরকম কয়েকজন আমাদের প্রবাসীদের জন্য কুলাঙ্গার৷ তাদের কাছে আমাদের আবেদন, আপনারা বাংলাদেশে এলে এ দেশের নিয়ম-কানুন আইন মেনে চলতে হবে৷ আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু এটা ইমার্জেন্সি অবস্থা, এটাও বুঝতে হবে।

প্রবাসীদের আগে আপনি ‘নবাবজাদা’ বলেছেন৷ আজ যারা আইন মানেন না ,তাদের ‘কুলাঙ্গার’ বললেন, এই ধরনের মন্তব্য কি ঠিক হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা আইন মানেন না, যারা আমাদের লোকজনকে বাজেভাবে গালিগালাজ করেছেন, পিটাপিটি করেছেন৷ আমি প্রবাসীদের বলিনি নবাবজাদা৷ এই ১৪২ জনের মধ্যে ১৫-২০ জন৷ তারা আমাদের এই ব্যবস্থা মানেন না৷ তাহলে টাকা দেন, ভালো জায়গায় নিয়ে যাবো৷ তাদের এই ধরনের ব্যবহার দুঃখজনক৷ প্রবাসীরা এদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া উচিত৷ কারণ, তারা প্রবাসীদের বদনাম করেছেন৷ আমি নিজেও একজন প্রবাসী৷ এটা আমার খারাপ লেগেছে৷ আমরা এই ধরনের ব্যবহার কখনোই করি না৷

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন আগে প্রবাসীদের নবাবজাদা বলে তোপের মুখে পড়েন এই মন্ত্রী। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সচেতন মহলে তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রবাসীরাও মন্ত্রীর কঠর সমালোচনা করে উক্তির জন্য ক্ষমা চাইতে আহবান করেন।

Comments

comments