নিজের ঘরেই আবদ্ধ নার্স, তিন দিনেও নমুনা সংগ্রহ হয়নি

পাশের কক্ষে স্বামী মাস্ক-গ্লাভস পরে আলাদা থাকছেন। নিজের জন্য রাইস কুকারে রান্না করছেন। তাঁর স্ত্রী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স। করোনা সন্দেহে তাঁকে আইসোলেশন ইউনিটে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানকার অবস্থা দেখে তিনি স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টিনে গেছেন। বাসায় নিজের কক্ষেই থাকছেন। নিজের খাবার নিজেই রান্না করছেন। স্বামীর সঙ্গে মুখ দেখাদেখিও নেই। গত শনিবার থেকে এই দম্পতি বাসায় এভাবেই রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ওই নার্সের নমুনা সংগ্রহের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।

গত শনিবার ওই নার্সকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হলেও তাঁর শরীরের উপসর্গ দেখা দিয়েছে তার দুই দিন আগে। তাঁর ১০২ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর উঠেছে। গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট রয়েছে। আছে ডায়াবেটিসের সমস্যা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে লিভারের সমস্যা। তাঁর লিভার বড় হয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাঁর লিভার ১৪ সেন্টিমিটার বেড়ে গেছে। ডায়াবেটিস থাকার কারণে ভিটামিন সি–জাতীয় ফলমূল খেতে পারছেন না। এরই মধ্যে গত শুক্রবার থেকে তাঁর পাতলা পায়খানা শুরু হয়েছিল। পরের দিন তা ডায়রিয়ায় রূপ নেয়। গত রোববার বিকেলে জ্বর একটু কমেছিল। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে তাঁর জ্বর আবার ১০১ ডিগ্রিতে উঠেছে। হটলাইনে ফোন করে ওষুধ পাল্টে নিয়েছেন। এই নার্সের বয়স এখন ৩০ বছর।

ওই নার্স বলেন, ঢাকা থেকে তিনি একটি বাসে ফিরছিলেন। তাঁর পাশে একজন যাত্রী ছিলেন। ওই যাত্রী ফোনে আরেকজনকে বলছিলেন যে ইতালিফেরত এক প্রবাসীর সঙ্গে তিনি দেখা করে আসছেন। এই নার্স ধারণা করছেন, যদি তিনি করোনায় আক্রান্ত হন, তাহলে ওই ব্যক্তির কারণেই হয়েছেন। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ফিরেই তিনি জ্বরে পড়েন। তাঁর মুখে কোনো রুচি নেই। কিছু খেতে পারছেন না। যেটুকু খাচ্ছেন, সেটুকু নিজেই তৈরি করছেন। ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। পাশের ঘরে তাঁর স্বামী রাইস কুকারে নিজের খাবার নিজেই তৈরি করছেন। এভাবেই রয়েছেন তাঁরা। ওই নার্স বলেন, তাঁকে আইসোলেশন ইউনিটে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে যখনই তিনি লোকজনকে বলেছেন, ‘তাঁর করোনা হতে পারে, একটু সাইড দেবেন।’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সবাই দৌড়ে দূরে চলে যান। এই অবস্থা দেখে তাঁর মনে হয়েছে, তাঁর যদি সত্যিই করোনা হয়ে থাকে, তাহলে হাসপাতালের আরও অনেকেই আক্রান্ত হতে পারেন। এ জন্য তিনি বাসায় চলে গেছেন। সংসারে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী শুধু দুজন মানুষ। তাঁরা আলাদা থাকছেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস জানান, তিনি ওই নার্সকে ঢাকার আইইডিসিআরের হটলাইনের নম্বর দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি (সাইফুল ফেরদৌস) সেখানে ফোন করে বলে দিয়েছেন। তারাই রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করবে। পরীক্ষার জন্য নমুনা নিয়ে যাবে। তিনি ধারণা করছেন, মেয়েটা সুস্থ হয়ে যাবে।

এদিকে আইইডিসিআর গত শনিবারই ঢাকা থেকে ফোন করে ওই নার্সের ঠিকানা ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করেছে। তবে এ পর্যন্ত কেউ তাঁর নমুনা সংগ্রহ করতে যাননি।

Comments

comments