সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই আড়াই লাখ ওষুধ বিপণন কর্মী

সারা দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ওষুধ বিপণনের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কর্মী, যাদের প্রতিদিন কমপক্ষে দুবার হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বারে যেতে হয়। কিন্তু কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই সেখানে যান তারা, যা বিদ্যমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে এসব ওষুধ বিপণন কর্মীকে।

ওষুধ কোম্পানিগুলোর মোট কর্মীর ৬৫ শতাংশই নিয়োজিত রয়েছেন সেলস ও মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে। মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মাধ্যমেই উৎপাদিত ওষুধ চিকিৎসকের সহযোগিতায় ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেয় ওষুধ কোম্পানিগুলো। এ কাজে মাঠ পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি কর্মী রয়েছেন স্কয়ার, ইনসেপ্টা, বেক্সিমকো, অপসোনিন, রেনাটা, হেলথকেয়ার, এসিআই, এরিস্টোফার্মা, এসকেএফ ও একমির। পাশাপাশি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল, ওরিয়ন, ল্যাবএইড, হাডসন, রেডিয়েন্ট, বিকন, এপেক্স, জেনারেল, গ্লোব, ওয়ান, নিপ্রো, রোচ, স্যান্ডোজ ও জিস্কা ফার্মারও মাঠ পর্যায়ে বিশাল কর্মী বাহিনী রয়েছে। চার পদের মেডিকেল ও সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভদের মধ্যে মেডিকেল প্রমোশন বা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব সফিউজ্জামান বলেন, জরুরি ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা সবাই বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। ব্যবসায়িক ঝুঁকি ছাড়াও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে। তবে এ ঝুঁকিকে আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি। এজন্য মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের কোনো প্রকার বাধ্য করা হচ্ছে না। তাদের নিরাপদ ও নিয়মিত সুরক্ষা নিয়ম পরিপালন করে বিপণনকাজে যুক্ত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া এ ঝুঁকির মধ্যে কেউ কাজ করতে না চাইলে তাকেও বাধ্য করা হচ্ছে না। স্বাধীনভাবে কর্মীদের এক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। কর্মীদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

দেশব্যাপী কর্মরত সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ ও মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের একটি সংগঠন রয়েছে, যার নাম ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিগণ (ফারিয়া)। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সদস্যদের প্রতি কিছু নির্দেশনা দিয়েছে সংগঠনটি।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব হাসপাতাল-ক্লিনিক ভিজিট আপাতত বন্ধ রাখতে হবে, রোগীদের সংস্পর্শ এড়াতে প্রেসক্রিপশনের কোনো ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে, ডাক্তারদের সঙ্গে রুটিন ভিজিট থেকে বিরত থাকতে হবে, সতর্কতার সাথে শুধু অর্ডার কালেকশন ও ডেলিভারি চলবে এবং সব ধরনের রিপোর্টিং বন্ধ থাকবে। রিপ্রেজেন্টেটিভরা নিজে থেকেই এ নির্দেশনা পালন করবেন।

এসব নির্দেশনা প্রতিপালনে কোম্পানি থেকে কোনো ধরনের ঝুঁকি বা সমস্যা তৈরি হলে তা ফারিয়া মোকাবেলা করবে বলে জানান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শফিক রহমান। তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোম্পানিগুলো কোনো ধরনের সহযোগিতা ও মানবিক দায়িত্ব পালন করছে না। এ অবস্থায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা কেবল সতর্কতার সঙ্গে ওষুধ কালেকশন ও ডেলিভারির কাজ চালাতে পারবেন। সেটি করলেও কোম্পানির কোনো ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হবে না। এ নির্দেশনা মানতে গিয়ে যদি কোনো প্রতিনিধিকে কোম্পানি চাকরিচ্যুত কিংবা কোনো হয়রানি করে, কেন্দ্রীয় ফারিয়া তাদের পাশে দাঁড়াবে।

উল্লেখ্য, দেশে প্রায় ২৭৩টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি থাকলেও বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে ২১৭টি কোম্পানি। কোম্পানিগুলো দেশে ও বিদেশে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ ওষুধ বিপিণন করে। ৭০ শতাংশ বাজার দখল রয়েছে শীর্ষ ১০টি কোম্পানির। এর বাইরে হোমিওপ্যাথিক, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হারবাল কোম্পানি রয়েছে। সেলস ও মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো অভ্যন্তরীণ বাজারে ওষুধ এবং এ-সংক্রান্ত পণ্য বিক্রি করে। দেশে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৪৬৬টি তালিকাভুক্ত ফার্মেসি রয়েছে। এসব ফার্মেসি ছাড়াও বেসরকারি হাসপাতাল, চিকিৎসক, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও দাতা সংস্থায় ওষুধ বিক্রি করে।

সূত্র: বণিকবর্তা

Comments

comments