করোনা আতঙ্কে ফাঁকা সারাদেশের বেশিরভাগ হাসপাতাল

দেশজুড়ে করোনাভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। যারা চিকিৎসাসেবা দেবেন সেই চিকিৎসক এবং নার্সরাও সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) অভাবে রোগী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সারা দেশে একই অবস্থা। স্বাভাবিক সময়ে যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো রোগীতে ঠাসা থাকত সেগুলো এখন রোগীশূন্য।

যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, চিকিৎসাসেবা না পেয়ে তারাও হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করেছেন। দু-চারটি হাসপাতালে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে ওই সব হাসপাতাল খালি হয়ে যায়। এ ছাড়া করোনা আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই হাসপাতালে যাচ্ছেন না। এসব কারণে অনেক বড় বড় হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা অলস সময় পার করছেন। ডাক্তাররা তাদের ব্যক্তিগত চেম্বারেও যাচ্ছেন কম। যারা যাচ্ছেন তারা আবার জ্বর-সর্দি-কাশির রোগী এড়িয়ে যচ্ছেন পিপিই না থাকার কারণে। খবর প্রতিনিধিদের।

নওগাঁ : চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অনেক রোগী নওগাঁ সদর হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রায় সব কটি ওয়ার্ডই ফাঁকা। ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে স্বাভাবিক সময়ে রোগীতে ঠাসা থাকত। কয়েক দিন ধরে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। নার্সরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ডাক্তারদের যে সংখ্যক পিপিই দেয়ার কথা, তা দেয়া হয়নি। আতঙ্কের মধ্য দিয়েই রোগীদের সেবা দিতে হচ্ছে।

গত ১৯ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে পুরুষ ওয়ার্ডে ৬৭ জন, মহিলা ওয়ার্ডে ১৩০ জন ও শিশু ওয়ার্ডে ১৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। ২৫ মার্চ থেকে ভর্তি রয়েছে মেডিসিন বিভাগের পুরুষ ওয়ার্ডে ৮ জন, মহিলা ওয়ার্ডে ১০ জন এবং শিশু ওয়ার্ডে ৬ জন। তারা সবাই জ্বর, সর্দি ও দুর্ঘটনার রোগী।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দেখা যায় গাইনি চিকিৎসক ডা. সুলতানা আফরোজ রুমিকে পিপিই পরে চিকিৎসা দিচ্ছেন। ভেতের ঢুকতেই দেখা গেল একজন ডাক্তার রোগী দেখছেন। কিন্তু রোগী ও চিকিৎসকের দূরত্ব ৫ ফুট। ওই দূরত্বে বসেই তিনি রোগীদের কাছ থেকে শুনে শুনে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিচ্ছেন।

অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ১২টি বেডের মধ্যে ১টি বেডে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একজন রোগীকে দেখা গেল। বাকিগুলো ফাঁকা। মেডিসিন পুরুষ ওয়ার্ডে ১২ বেডের মধ্যে ৩টি বেডে রোগী রয়েছে। মোটকথা ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ২৪ জন রোগীকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

হাসপাতালের নার্সদের সুপারভাইজার জাহানারা খানম বলেন, হাসপাতালের নার্সের সংখ্যা ৬৫ জন। গত কয়েকদিন আগে কয়েকজনকে মাস্ক দেয়া হয়েছে। অনেকে নিজেরাই কিনে নিয়েছে। এখনও সাবান, হ্যান্ডওয়াশ, গ্লাভস দেয়া হয়নি। অথচ ডাক্তারের পরেই আমাদের স্থান।

আমাদেরকে হাসপাতালের সর্বত্রই সেবা দিতে হয়। ডাক্তারদের পিপিই দেয়া হয়েছে। এরপরও ডাক্তাররা দূর থেকেই রোগী দেখছেন। কিন্তু আমাদেরকে রোগীর কাছে গিয়ে সেবা দিতে হয়। আমাদের ঝুঁকি আরও বেশি। গত ৩ দিন থেকে হাসপাতলে রোগী কমতে শুরু করেছে।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুমিনুল হক বলেন, চাহিদার তুলনায় পিপিই অপ্রতুল। আমরা পিপিইর যে সরঞ্জাম পেয়েছি তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। হাসপাতালে ২২ জন ডাক্তার কর্মরত আছেন। সব ডাক্তারকে পিপিই দেয়া হয়েছে। নার্সদের পর্যাপ্ত মাস্ক দিতে পারিনি। যারা ডিউটিতে থাকবে তাদের জন্য কিছু মাস্ক দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাবান দেয়া হয়েছে। আরও চাহিদা পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, হাঁচি, কাশি ও সর্দির রোগীদের গায়ে হাত না দিলেও ডাক্তার চিকিৎসা দিতে পারবেন।

ডাক্তারদের গ্লাভসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা. আখতারুজ্জামান আলাল বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম এসেছে। এসব সামগ্রীর মধ্যে আছে- পিপিই ৫০ সেট, ছোট গ্লাভস ১০০ পিস, মাঝারি গ্লাভস ১০০ পিস, বড় গ্লাভস ১০০ পিস, ৫০ এমএল হেক্সিসল ১০০ বোতল, মাস্ক ২০০ পিস, এমওপি ক্যাপ ৫০টি, গাউন ৫০ পিস, সু-কভার ৫০ পিস এবং চশমা ৫০টি। এসব সামগ্রী জেলার ১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিতরণ করা হয়েছে।

চুনারুঘাট : হবিগঞ্জের ৫০ শয্যার চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন রোগীশূন্য। ভর্তি রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে সবাই বাড়ি ফিরে গেছেন। যারা আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসছেন তারা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড পুরোপুরি খালি।

কোনো রোগী নেই। অথচ গত সোমবারও হাসপাতালে ৪৫ জন রোগী ভর্তি ছিল। বৃহস্পতিবার জরুরি বিভাগে প্রায় ২৫-৩০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও কেউ ভর্তি হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন জানান, গত সোমবারও ৪৫ জন রোগী ছিল।

তারা সবাই প্রায় সুস্থ ছিল। তারা ছাড়পত্র নিয়ে চলে যায়। করোনা আতঙ্কেই মূলত তারা হাসপাতাল ছেড়ে গেছে। কেউ এখন ভর্তি হতে চাইছে না। সাধারণত দিনে ৭০-৮০ জন রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসত, করোনার কারণে এখন আসছে ৩০-৩৫ জন।

ছাতক (সুনামগঞ্জ) : সারা দেশ কার্যত লকডাউনে চলে যাওয়ায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোয় কোথাও রোগীর ভিড় নেই। বেশিরভাগ চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ। প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোয়ও নেই রোগী। ছাতক হাসপাতালে যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ২০০-৩০০ রোগী ভর্তি থাকত, সেখানে বৃহস্পতিবার রোগীর সংখ্যা ছিল ২০-৩০ জন। হাসপাতালের বহির্বিভাগেও চাপ নেই। কথা হয় হাসপাতালের ডাক্তার রায়হান আহমদের সঙ্গে। তিনি বলেন, করোনা নিয়ে লোকজন আতঙ্কিত। খুব জটিল রোগে আক্রান্ত না হলে কেউ হাসপাতালে আসছেন না।

তাই রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক কম। তিনি বলেন, আমাদের চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, কোথাও ব্যত্যয় নেই। তবে একাধিক সূত্র বলছে, খুব জটিল রোগ না হলে আপাতত ভর্তি নেয়া হচ্ছে না। ব্যবস্থাপত্র দিয়েই ফেরত পাঠানো হচ্ছে রোগীদের।

তবে তার সংখ্যাও কম। কিছু ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার খোলা থাকলেও ডাক্তার না থাকায় নেই রোগীর ভিড়। এসব হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের মধ্যেও করোনা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীর কাছে আসছেন না, কথাও বলছেন কম। অনেক হাসপাতালে পিপিই না থাকায় ডাক্তার এবং অন্য স্টাফরাও জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি রোগীদের কাছে যাচ্ছেন কমই।

নেত্রকোনা : স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ৪-৫’শ রোগীর সমাগম থাকলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি রোগী পাওয়া গেছে মাত্র আটজন। এর মধ্যে গাইনি ওয়ার্ডেই ছয়জন। অন্য সময় দিনে আড়াই শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। বুধবার রাত বারোটার দিকে মাত্র ৭২ জন রোগীকে দেখা গেল হাসপাতালের বেডে।

অন্য সময়ে ৪-৫ শতাধিক রোগী আউটডোরে সেবা নিলেও এখন তা অনেক কমে গেছে। ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য কোনো চিকিৎসক নেই। ফলে তাদের দেখভাল করছেন নার্সরাই। হাসপাতালে ভর্তির পরই নয়ন শীলকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে যেতে বলা হয়েছে। নয়নের ভাই রাজন শীল ও মা ময়না রানী শীল বলেন, নয়নের মাথাব্যথা ও বমি রোগ দীর্ঘদিনের। দরিদ্রতার কারণে নয়নের ভালো চিকিৎসা করাতে পারি না। সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি।

তারা এখন বলছে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিয়ে যেতে। গাইনি ওয়ার্ডে নার্স স্মৃতি বেগম জানান, পঁচিশ বছরের চাকরিজীবনে এত কম রোগী জীবনেও দেখিনি। রোগীরা করোনা আতঙ্কে হাসপাতাল ছেড়ে যাচ্ছে। আমরা কোথাও যেতে পারব না। আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সামগ্রী দেয়া হচ্ছে না।

নেত্রকোনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. তাজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, চিকিৎসক ও নার্সদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর চাহিদা দিয়েছিলাম, তা পেয়েছি। আমাদের যে চিকিৎসক আছে তা দিয়েই চেষ্টা করে যাচ্ছি। জেলার ১০ উপজেলার ১০০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রয়েছে।

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) : করোনা আতঙ্কে প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা দিচ্ছেন না চিকিৎসকরা। গত সোমবার থেকেই এ অবস্থা। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসক না থাকার বিষয়টি নোটিশের মাধ্যমে রোগীদের অবগত করা হয়েছে। জানা গেছে, করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় চিকিৎসা দিচ্ছেন না চিকিৎসকরা।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার কারণে সরকারি নির্দেশে স্ব-স্ব কর্মস্থলে থাকতে বলা হয়েছে যার ফলে প্রাইভেট ক্লিনিকে প্র্যাকটিস কিছু দিনের জন্য বন্ধ রেখেছি। বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা রিতা আক্তার ও তার মা ফরিদা বেগমের সঙ্গে কথা হয়।

তারা বলেন, মেয়ের হাত ভেঙে গেছে, এখানে কয়েকটি ক্লিনিকে গিয়ে ডাক্তার না পেয়ে বরিশাল বড় হাসপাতালে নেয়ার অপেক্ষায় আছি। শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনাকবলিত রোগীরাও চিকিৎসা পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চিকিৎসক বলেন, চিকিৎসক সংকটের মধ্যে করোনা আতঙ্কে রোগীও চিকিৎসা নিতে ভয় পাচ্ছে! চিকিৎসকরাও আতঙ্কে। এ অবস্থা চলতে থাকলে চিকিৎসাসেবা সংকটের মুখে পড়বে।

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) : ভৈরবের ডাক্তাররা হাসপাতাল বা চেম্বারে কোথাও রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগী চিকিৎসা নিতে গেলে বলা হচ্ছে হটলাইনে ফোন করে চিকিৎসা নিতে। প্রসব বেদনা নিয়ে অনেক গর্ভবতী নারী হাসপাতালে গেলেও সিজার করা হচ্ছে না বলেও জানা গেছে। বন্দরনগরী ভৈরবে প্রায় ২০টি প্রাইভেট হাসপাতাল রয়েছে এবং ৮-১০টি বেসরকারি ডাক্তারের চেম্বার আছে। গত কয়েকদিন ধরে দু-একটি বাদে কোনো চেম্বারেই তারা বসছেন না।

সেন্ট্রাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মিজানুর রহমান জানান, মানবিক কারণে আমার হাসপাতালে নরমাল রোগের চিকিৎসা দিচ্ছি। তবে ডাক্তাররাও মানুষ, তাই তাদের সুরক্ষার জন্য পিপিই বা সরঞ্জামাদি না দিলে তারা কীভাবে চিকিৎসা দেবে। আলশেফা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এবি সিদ্দিক জানান, আল্লাহ ভরসা, আমি প্রতিদিন রোগীদের চিকিৎসা দিতেছি।

মূলত আমার হাসপাতালে বেশিরভাগ রোগীই শিশু। অপারেশনও করছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ জানান, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগী হলে হটলাইনে ফোন করে চিকিৎসা নিতে বলা হচ্ছে। পিপিই না থাকায় চিকিৎসকরা অপারেশন করছে না বলে তিনি স্বীকার করেন।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) : করোনা আতঙ্কে ৩১ শয্যার বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে। এক সপ্তাহ আগেও রোগী ধরার ঠাই ছিল না। বৃহস্পতিবারও কোনো রোগী ছিল না। তাছাড়া বুধবার মহিলা ওয়ার্ডে তিনজন রোগী থাকলেও পুরুষ ওয়ার্ডে কোনো রোগী ছিল না বলে জানান কর্তব্যরত নার্সরা।

এ সময় হাসপাতালে রোগী না থাকায় চিকিৎসক-নার্সদের অলস সময় কাটাতে দেখা যায়। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৪৫০-৫০০ রোগীকে বহির্বিভাগে টিকিট কেটে চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্র ও ওষুধ দিচ্ছেন। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে রোগী আসা একেবারেই কমে গেছে। বাইরে নোটিশ টাঙিয়ে দিয়ে সর্দি, জ্বর ও কাশির রোগীদের হাসপাতালে আসতে বারণ করা হয়েছে।

এদিকে, করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালে ৫ বেডের আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তায় কিছু পিপিই এসেছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ ব্যাপারে মেডিকেল অফিসার ডা. শারমিন জাহান জানান, মানুষ করোনা আতঙ্কে হাসপাতালে কম আসছে। সর্দি-জ্বরের রোগীদের আসতে বারণ করে হাসপাতালের জরুরি নম্বর বা মেডিকেল অফিসারদের নম্বরে কল দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র নিতে বলা হয়েছে।

শেরপুর : শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খাইরুল কবীর সুমন জানান, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। প্রতিদিন যেখানে ২৭০-২৮০ জন রোগি ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিত সেখানে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি আছে মাত্র ৪৯ জন। ফলে হাসপাতালের বেশিরভাগ বেডই ফাঁকা রয়েছে।

সূত্র: যুগান্তর

Comments

comments