এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ১ বছর, এখনও দাখিল হয়নি প্রতিবেদন

রাজধানীর বনানীতে এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় এক বছরেও প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি মামলার তদন্ত সংস্থা। এক বছরে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৯ বার সময় পেয়েছেন তারা। তদন্ত সংস্থা বলছে, মামলাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বসহকারে মামলাটির তদন্ত চলছে। তাই একটু সময় লাগছে।

গত বছরের ২৮ মার্চ বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের পাশের ১৭ নম্বর সড়কে ফারুক রূপায়ন (এফআর) টাওয়ারের ভয়াবহ আগুনে ঘটনাস্থলে ২৫ জন ও হাসপাতালে একজন নিহত হন। আহত হন ৭৩ জন। ঘটনার দুই তিন পর বনানী থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। মামলায় আসামি করা হয় ভবনের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভীর-উল-ইসলাম, জমির মালিক প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুক ও রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান। এছাড়া এফআর টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতাসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মামলায় এজহারভুক্ত তিন আসামিই জামিনে আছেন।

সর্বশেষ ১২ মার্চ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৬ এপ্রিল নতুন দিন ধার্য করেন।

মামলাটি তদন্ত করছেন মহানগর গোয়েন্দা সংস্থা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুল হক জানান, মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অনেকে মারা গেছেন। আশা করি খুব দ্রুত মামলাটির তদন্ত শেষ হবে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের পাশের ১৭ নম্বর সড়কে ফারুক রূপায়ন (এফআর) টাওয়ারের ভয়াবহ আগুনে ঘটনাস্থলে ২৫ জন ও হাসপাতালে একজন নিহত হন। আহত হন ৭৩ জন।

পরে ৩০ মার্চ এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বনানীর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিল্টন দত্ত বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে মানুষের জানমালের ক্ষতি, অবহেলা ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ কার্যকলাপের ফলে অপরাধজনক অগ্নিকাণ্ডে মানুষের প্রাণহানি, মারাত্মক জখমসহ সম্পদের ক্ষতিসাধন করে।

মামলার আসামিরা হলেন- ভবনের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভীর-উল-ইসলাম, জমির মালিক প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুক ও রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান। এছাড়া এফআর টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতাসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের দিনই বারিধারার নিজ বাসা থেকে তাসভির উল ইসলাম ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ভবন জমির মালিক প্রকৌশলী এসএমএইচআই ফারুককে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন (৩১ মার্চ) তাদের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ৯ এপ্রিল তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এরপর ১১ এপ্রিল জামিন পান তাসভীর-উল-ইসলাম ও ৬ মে জামিন পান ফারুক। রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ওরফে মুকুল ২৩ জুন আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এদিকে এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতির মামলায় ভবনের অন্যতম মালিক এসএমএইচআই ফারুক ও তাসভীর-উল-ইসলামসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে দুদক। মামলাটি তদন্তধীন অবস্থায় রয়েছে। আগামী ২২ এপ্রিল মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ভবনটির কয়েকটি তলা বাড়ানোর অভিযোগে গত ২৫ জুন তাসভীরসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দুদক কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক দুটি মামলা করেন। একটি মামলায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারকে ১৯ তলা থেকে বাড়িয়ে ২৩ তলা করা, উপরের ফ্লোরগুলো বন্ধক দেয়া ও বিক্রির অভিযোগে ২০ জনকে আসামি করা হয়।

অপর মামলায় এফআর টাওয়ারের ১৫ তলা পর্যন্ত নির্মাণের ক্ষেত্রে ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন এবং নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলা পর্যন্ত বাড়ানোর অভিযোগ করা হয়।

১৯৯০ সালে ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য রাজউক থেকে অনুমতি নেয় এফআর টাওয়ার কর্তৃপক্ষ। পরে সেই একই নকশা দেখিয়ে ১৯৯৬ সালে ১৫ তলার জায়গায় ১৮ তলা নির্মাণের অনুমোদন নেয়া হয়। তবে দুদকের মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ওই অনুমোদন দেয়ার বিষয়টিও ছিল ‘অবৈধ’।

Comments

comments