টিভিতে পাঠদান: শুধু রেকর্ডিংয়ের জন্য ১৬ কোটি টাকা চায় শিক্ষা অধিদপ্তর!

সংসদ টিভিকে এক পয়সাও দিতে হবে না। রাজধানীর কয়েকটি নামকরা স্কুলে শিক্ষকরা খুশীতে ক্লাস রেকডিং করেছেন। জাতির এ ক্রান্তিকালে তারা কোনো সম্মানীও দাবি করেননি। তবুও শুধু ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির লেকচার ভিডিও ধারণের জন্য ১৬ কোটি টাকার বিশাল বাজেট দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে এই বাজেট চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

১৬ কোটি টাকা কোন কোন খাতে খরচ হবে ইত্যাদি বিষয় জানার জন্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো: গোলাম ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে টিভিতে ক্লাস নেয়ার বিষয়টি দেখভাল করছেন কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো: শাহেদুল খবির চৌধুরী। তাকেও অফিসে পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষা অধিদপ্তরের ধান্দাবাজরা এই সুযোগে বিতর্কিত ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্টুডিও ব্যবহার করেছে। যদিও কথা ছিলো রেকডিংয়ের জন্য শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন ব্যনাবেইসের স্টুডিও ব্যবহার করার। তাড়াতাড়ি করার অজুহাত দেখিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয়া হয়েছে। অথচ ঢাকার কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চমৎকার স্টুডিও ছিলো। এভাবে বিতর্কিত দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরকারের কাজে যুক্ত করার ধান্দা করছে শিক্ষা অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা।

করোনা ভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় ‘সংসদ টেলিভিশনে’ ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষাদান শুরু করার উদ্যোগ নেয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটুআই প্রকল্পের সহায়তায় এই সম্প্রচার কাজটি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিলো মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। আর এই সুযোগে বিশাল বাজেট দিয়ে বসেছে অধিদপ্তর। টিভিতে সম্প্রচারের জন্য ক্লাসের ভিডিও ধারণেই ১৬ কোটি টাকার বাজেট চেয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে, প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২৮ মার্চ থেকে সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস প্রচার শুরু হচ্ছেনা। ২৯ মার্চ থেকে মোটামুটিভাবে শুরু করবে। কোনো রুটিন করতে পারেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের ঘরে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি বারবার বলেছেন, ‘বাইরে ঘোরাঘুরির জন্য ছুটি দেয়া হয়নি, বাড়ীতে থাকার জন্য এবং অবশ্যই বাড়ীতে বসে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।’

জানা গেছে, যতদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ততদিনই টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। দীর্ঘসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে বাসায় অবস্থান করেই ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সংসদ টেলিভিশনে রেকর্ড করা ক্লাস সম্প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিদিন সাতটি করে প্রতিসপ্তাহে ৩৫টি ক্লাস প্রচার করা হবে। শিক্ষার্থীরা বাসায় বসেই টেলিভিশনে নিজ নিজ বিষয়ের ওপর অভিজ্ঞ শিক্ষকদের দেয়া শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক শিক্ষা

Comments

comments