করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অনেক দেশের বিজ্ঞানীরা। ইতিমধ্যে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও শুরু হয়েছে। তাদের সঙ্গে এবার যুক্ত হলো অস্ট্রেলিয়াও।

অস্ট্রেলিয়ার এই প্রচেষ্টা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিসি, গার্ডিয়ান, ডয়চে ভেলে।

বৃহস্পতিবার দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ ভাইরাসের সম্ভাব্য ভ্যাকসিন পরীক্ষার প্রথম পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে তারা। দুটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন নিয়ে মেলবোর্নের কাছে একটি পরীক্ষাগারে প্রাক-ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু হবে।

কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (সিএসআইআরও) নামে পরীক্ষাগারটির স্বাস্থ্য পরিচালক রব গ্রেনফেল জানান, প্রাথমিক পর্যায়ের এ পরীক্ষা সম্পন্ন হতে তিন মাস সময় লাগবে। তবে তার মতে, আগামী বছরের শেষ নাগাদ ছাড়া কোনো ভ্যাকসিন হাতে পাওয়া যাবে না।

গ্রেনফেল বলেন, ‘সাধারণ গ্রাহকদের হাতে ভ্যাকসিন তুলে দিতে ১৮ মাস সময়সীমার মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারব বলে আমরা আশা প্রকাশ করছি। অবশ্যই এর পরিবর্তন হতে পারে। কারণ, অনেকগুলো কারিগরি বাধা দূর করে এগোতে হবে আমাদের।’

তিনি বলেন, আমাদের বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করে যাচ্ছেন। মাত্র ৮ সপ্তাহে প্রাক-ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা স্তরে চলে এসেছে। অন্য সময় এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগে।

অস্ট্রেলিয়ার এ গবেষক জানান, তাদের তৈরি করোনাভাইরাসের দুটি ভ্যাকসিন এ মাসের শেষের দিকে বা আগামী মাসের শুরুতে মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হবে।

উন্নত সুরক্ষার জন্য ইনজেকশন ও নাকের স্প্রে তৈরি করা হবে বলেও সিএসআইআরও’র পক্ষ থেকে জানানো হয়।

চীনের বাইরে সিএসআইআরও একমাত্র গবেষণা সংস্থা, যারা পরীক্ষাগারে করোনাভাইরাসের আলাদা সংস্করণ তৈরি করে এর ভ্যাকসিনের জন্য প্রাক-ক্লিনিক্যাল গবেষণা চালাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি মানুষের ওপর কোনো ভ্যাকসিন পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গত মাসে সিয়াটলে এ পরীক্ষা শুরু করে মর্ডানা। আরও ভ্যাকসিন তৈরিতে মর্ডানা, জনসন অ্যান্ড জনসনের সঙ্গে চুক্তি করেছে মার্কিন সরকার। এ ছাড়া আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলও তাদের একটি বায়ো-কেমিক্যাল পরীক্ষাগারে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের প্রটোটাইপ ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করছে।

প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৯ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৪৭ হাজারের বেশি মানুষ। সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে ইতালিতে। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১৫৫ জনে। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি, দুই লাখ ১৬ হাজার মানুষের শরীরে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে।

Comments

comments