প্রচ্ছদ

করোনায় আটকে গেছে সাড়ে চার লাখ শিক্ষকের বেতন

2020/04/sangbad247-1.jpg

করোনার কারণে আটকে গেছে সাড়ে চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন। বেসরকারি এসব স্কুল-কলেজের বেতন কবে তারা হাতে পাবেন সেটিও নিশ্চিত নয়। বেতন না পেয়ে মানবতের জীবন যাপন করতে হচ্ছে এসব শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তবে সরকারি ছুটি এবং আরো কিছু জটিলতার কারণে বেতন ব্যাংকে পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হলেও বেতন দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিছু কাজ শেষে বেতনের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হবে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা আটকে গেছে। মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি সুবিধা ছাড় দেয়া হয়নি। বেতনভাতা না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। তবে সব প্রক্রিয়া শেষে বেতনের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানোর জন্য ফাইল স্বাক্ষর হয়েছে।

এ দিকে সংশ্লিøষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত ১৭ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাথে সাথে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিজ বাসায় অবস্থান করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে বেতন পেলেও এখনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সরকারি বেতনের অংশ (এমপিও) ছাড়করণ হয়নি। এ অর্থ ব্যাংকে জমা দেয়া হলেও তা শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে পৌঁছতে আরো অর্ধমাস সময় লেগে যাবে। এ কারণে ক্ষুব্ধ সারা দেশের প্রায় সাড়ে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর দিনরাত বাসায় অসহনীয় সময় পার করতে হচ্ছে আমাদের। তার মধ্যে মাস শেষ হলেও এখনো আমাদের এমপিওভুক্তির অর্থছাড় দেয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন, বেতন না পেয়ে শিক্ষকরা বাড়িভাড়া দিতে পারছেন না। সরকার ব্যাংকের লোনের কিস্তি আদায় বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও ব্যাংকগুলো নানা অজুহাত দেখাচ্ছে। শিক্ষকরা প্রায় ১৫ দিন ঘরে বসা। ঘরে নিত্যপণ্যের মজুদ প্রায় শেষ। পকেট খালি, চার দিকে আমাদের অন্ধকার হয়ে এলেও নিজের অভাব ও অভিযোগের কথা কাউকে বলতে পারছি না। এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের সাড়ে চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন।

অপর এক শিক্ষক নেতা বলেন, সামনে আসছে রোজা ও রোজার ঈদ। আমাদের ঈদ বোনাস মাত্র ২৫ শতাংশ, যা ১৬ বছরেও পরিবর্তন হয়নি। মার্চ মাসের বেতন ও ভাতা এখনো ছাড় হয়নি। আজকালের মধ্যে এ অর্থ ছাড় হলেও তা তুলতে আরো ১৫ দিনের বেশি লেগে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো: গোলাম ফারুক বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের বেতনভাতা ছাড়ের সব কাজ শেষ হয়েছে। আগামী রোববার বেতনভাতার চেক ব্যাংকে দেয়া হবে। এ নিয়ে শিক্ষকদের দুশ্চিন্তা না করারও পরামর্শ দেন অধিদফতরের মহাপরিচালক।

মন্তব্য