করোনা মোকাবেলায় সর্বদলীয় বৈঠক চায় বিরোধীরা, সাড়া নেই সরকারের

করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় সর্বদলীয় বৈঠক কিংবা জাতীয় কমিটি গঠনের জোরালো দাবি উঠেছে। সরকারের প্রস্তুতিতে ঘাটতির সমালোচনা করে দ্রুত জাতীয় কমিটি গঠনের কথা বলেছে বিএনপি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দলগুলো থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে সঙ্কট মোকাবেলার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বাম গণতান্ত্রিক জোট ও সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তবে এসব আহ্বানে এখন পর্যন্ত সরকার বা সরকারি দল আওয়ামী লীগের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আগামীতেও পাওয়া যাবে এমন কোনো লক্ষণ নেই।

সরকার মনে করছে, দেরিতে হলেও তারা করোনা মোকাবেলায় ভালো প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নিজেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। সরকারের কৌশলও এগোচ্ছে ঠিকভাবেই।

গত সপ্তাহে করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় জাতীয় কমিটি গঠনের দাবি জানায় বিএনপি।

দলটির নীতিনির্ধারকরা বলেছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে কোনো রাজনীতির সুযোগ নেই। বিএনপি কখনোই সমালোচনার জন্য সমালোচনা করছে না, বরং সরকারকে সাহায্য করতে চেয়েছে। তারা সবাইকে সাথে নিয়ে একসাথে কাজ করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন পর্যন্ত একটা জাতীয় কমিটি তৈরি হয় নাই, যা করা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এক শ’ ৬০ মিলিয়নের দেশ। এখানে একেবারে নিচের দিককার অর্থনীতি। সেখানে এই ধরনের সঙ্কট মোকাবেলায় যদি একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা যায়, সেটাই হবে দেশের জন্য ভালো কাজ। আমরা মনে করি, এখনো সময় আছে জাতীয় কমিটি করা দরকার।

মির্জা ফখরুল এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পলিটিক্যাল পার্টি, সিভিল সোসাইটি সবাইকে নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এ কাজটি করতে পারেন।

বাম গণতান্ত্রিক জোটও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে জনগণকে রক্ষায় সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার বলে মনে করছে। এ জন্য সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে সবার মতামত নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জোটের নেতারা।

বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের নেতারা বলেছেন, বাংলাদেশ করোনা প্রতিরোধের বিষয়টি আগে গুরুত্ব না দিয়ে ভুল করেছে। এখনো যদি দলীয় অহমিকা বাদ দিয়ে সবাইকে যুক্ত করে এই মহামারী মোকাবেলার উদ্যোগ না নেয়া হয়, তাহলে জাতিকে কঠিন খেসারত দিতে হবে। এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

বাম নেতারা বলেন, সব মত-পথের চিকিৎসক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, গবেষক ও ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে পরীক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বাজেট পুনর্বিন্যাস করে প্রয়োজনে এডিপি কাটছাঁট করে করোনা চিকিৎসা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য এবং তাদের নগদ অর্থ সহায়তা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।

জোট নেতারা এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে তারা বলেন, শুরু থেকেই সরকার এ মহামারীকে গুরুত্ব না দেয়ার কারণেই গত তিন মাসেও একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান করোনা পরীক্ষা করছে। সেখানকার মুখপাত্র আক্রান্ত ও মৃতের যে পরিসংখ্যান দিচ্ছে, তা থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে সরকার প্রস্তুতি নেয়নি। দেশবাসী সরকারি ভাষ্য একদমই বিশ্বাস করছে না। এ দিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দলগুলো বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলÑজেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, করোনাভাইরাসজনিত মহামারীর কারণে জাতি হিসেবে আমরা এক অভাবনীয় সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছি। এর তীব্রতা বিস্তৃতি আমাদের জাতিকে এখন এক মৌলিক আর দীর্ঘ দিনের অমীমাংসিত প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। আমরা কি এই বিপত্তি মোকাবেলার জন্য জাতি হিসেবে আবারো ১৯৭১ সালের মতো একতাবদ্ধ হতে পারি না?

তিনি বলেন, সরকার আর সরকারের বাইরে এখন সবার এক কাতারবন্দী হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক সব ভেদাভেদ ভুলে এখন সবার একজোট হওয়ার সময়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সঙ্কটটি ভয়াবহ। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে, কতটা বিপদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি আমরা। এই অবস্থায় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। অভাবগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় সাহায্য পৌঁছে দিতে হবে। সব রাজনৈতিক দলকে একযোগে সামাজিক দূরত্ব মাথায় রেখে কাজ করে যেতে হবে। তিনি জানান, বিএনপি ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দলের চিকিৎসকরাও বসে নেই। প্রত্যেকে যে যার অবস্থান থেকে কাজ করছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যের আহ্বানে এখনো সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: নয়া দিগন্ত

Comments

comments