মহামারির মধ্যেই ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি ৯, ২৪ ঘণ্টায় ৬ জন

বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় যখন ব্যস্ত বাংলাদেশ, ঠিক এমন পরিস্থিতিতেও থেমে নেই এডিস মশার আক্রমণ। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতের তথ্য বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ছয় জন। সব মিলিয়ে বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরের ৯ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় এ বছরের প্রথম তিন মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগী সংখ্যা প্রায় চার গুণ।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার এসব তথ্য জানান।

ডা. আয়শা আক্তার বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ২৮০ জন রোগী। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ২১৭ জন ও বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে ৬৩ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ডা. আয়েশা জানান, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন শহরে ৩০ জন, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জন করে রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়াও খুলনা বিভাগে ৯ জন, বরিশাল বিভাগে তিন জন ও রাজশাহী বিভাগে একজন চিকিৎসা নিয়েছেন।

বর্তমানে যে ৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের তথ্য জানিয়ে ডা. আয়েশা বলেন, বর্তমানে ঢাকা শিশু হাসপাতালে একজন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে সাত জন ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে একজন চিকিৎসাধীন আছেন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে।

বছরের প্রথম তিন মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৯ সালের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে এ বছর প্রথম তিন মাসে এমন রোগীর সংখ্যা ২৭১ জন, যা গত বছরের প্রায় চার গুণ।

২০১৯ সালে ডেঙ্গু রোগ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, এই রোগের ধরণ পাল্টেছে। এটি এখন আর কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের রোগ নেই। বছরজুড়েই থাকতে পারে ডেঙ্গু। একই কথা জানানো হয় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পক্ষ থেকেও। বাংলাদেশে সবাই যখন এ বছর কোভিড-১৯ প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন, তখন ডেঙ্গুর এমন হানাকে আশঙ্কাজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক ডিন ও মেডিসিন অনুষদের অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, এখনই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। এর মানে হলো ডেঙ্গু এখন আর কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের রোগ নয়। সামনে আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে বৃষ্টি শুরু হবে। তাই এখনই ডেঙ্গু প্রতিরোধে বছরব্যাপী কর্মসূচি নিতে হবে। এছাড়াও প্রতিটি হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার করা যেতে পারে। তা না করলে কোভিড-১৯ সংক্রমণের সঙ্গে এটিও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

Comments

comments