চাকরিতে উন্নতি পেতে সহজ সমাধান

চাকরিজীবীদের একটি সাধারণ সমস্যা হলো কর্মক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত উন্নতির দেখা না পাওয়া। এটি হতে পারে কাঙ্ক্ষিত বেতন বৃদ্ধি না হওয়া, প্রমোশন না পাওয়া, গ্রেড বৃদ্ধি না হওয়া ইত্যাদি। চাকরিতে উন্নতি করতে হলে অবশ্যই ভালো কাজ জানতে হবে। কাজের প্রতি আন্তরিকতা থাকতে হবে। আর আপনাকে অবশ্যই বিচক্ষণ হতে হবে।

ধরুন, আপনি চাকরি বদলের কথা ভাবছেন। শুধু বেতন বেশি হলেই যে অন্য চাকরিটি আপনার জন্য ভালো হবে, এমনটা নাও হতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে যদি আপনার জন্য ভালো চাকরির সুযোগ আসে, তাহলেই চাকরি পরিবর্তন করুন। আবার ঘন ঘন চাকরি বদলকেও নিয়োগকর্তারা ভালো চোখে দেখেন না। তাই আপনি কখন চাকরি পরিবর্তন করবেন, তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। চাকরিতে ভালো করতে হলে নিচের আটটি বিষয় মাথায় রাখুন

১. স্মার্ট কাজ করুন
কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, তবে তা স্মার্টভাবে। ধরুন, দেয়াল ধাক্কানো একটি কঠোর পরিশ্রমের কাজ। কিন্তু এই দেয়াল ধাক্কানোর কাজ করে কোনো ফল পাওয়া যায় না। একইভাবে আপনি হয়তো অফিসের পুরো সময়ে মনোযোগসহকারে অনেক কাজ করছেন, কিন্তু তা প্রতিষ্ঠানের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে না। ফলে কাজ করেও কর্মমূল্যায়নের সময় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায় না। তাই স্মার্টভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করুন। নির্দিষ্ট সময় পরপর সিনিয়রদের সঙ্গে আপনার কাজ নিয়ে কথা বলে তাঁদের চাহিদা বুঝুন এবং সে অনুযায়ী কাজ জমা দিন। এতে আপনার কাজ সম্পর্কে সিনিয়ররা আরও ভালোভাবে অবগত থাকবেন এবং আপনার কাজের সঠিক মূল্যায়ন করবেন।

২. পাঁচ বছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করুন
আগামী পাঁচ বছর পর নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান, তা নির্ধারণ করুন। এরপর এই পাঁচ বছর সময়কালকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করুন। ধরুন, প্রতিবছরের জন্য একেকটি ধাপ নির্ধারণ করে তা অর্জনের চেষ্টা করুন। নিজের সঙ্গে নিজের ভালো বোঝাপড়া তৈরি করুন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ধাপ অতিক্রম করতে না পারলে কৌশল পরিবর্তন করুন। প্রয়োজনে ভালো সুযোগ দেখে চাকরি বদল করুন।

৩. প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখুন, প্রয়োজনে কোর্স করুন
আপনি যদি ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে চান, তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখতে হবে। সব সময় আপডেটেড থাকতে হবে। নতুন জিনিস শেখার ক্ষেত্রে কোনো ট্রেনিং সেশনে অংশগ্রহণ করা যায় অথবা অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ব্লগ ও ইউটিউব থেকে শেখা যায়। তা ছাড়া বিভিন্ন অনলাইন কোর্সও করা যায়। আবার ধরুন, আপনার এমবিএ করা নেই। কিন্তু আপনি মনে করছেন এমবিএ করা থাকলে আপনার ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে সুবিধা হবে। সে ক্ষেত্রে সন্ধাকালীন এমবিএ করে নিন। প্রয়োজনমতো অন্যান্য কোর্সও করে নিতে পারেন। মনে রাখতে হবে, আপনি যদি অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকতে না পারেন, তাহলে আপনি পিছিয়ে পড়বেন।

৪. পরিচিত লোকের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করুন
আপনার ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করুন। আপনার আগ্রহ ও কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন সম্মেলনে বা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অনেকের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ও ভাবের আদান-প্রদানের সুযোগ নিন। তা ছাড়া আপনার ইন্ডাস্ট্রির কোনো অ্যাসোসিয়েশন থাকলে সেখানে যুক্ত হতে পারেন। বিভিন্ন মহলের মানুষদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখুন।

৫. আস্থা অর্জন করুন ও কাজের দায়িত্ব নিন
সততা ও নিষ্ঠা দিয়ে কাজ করে আপনাকে সবার আস্থাভাজন হতে হবে। আপনার ওপর আস্থা রাখা না গেলে আপনি বড় কাজের দায়িত্ব পাবেন না। আর বড় কাজের দায়িত্ব না পেলে বড় পদ বা বেশি বেতন কোনোটাই পাবেন না। তাই সততার সঙ্গে কাজের দায়িত্ব নিন। নির্ভুলভাবে কাজ করার চেষ্টা করুন। ভুল হলে তা স্বীকার করুন।

৬. পরামর্শদাতা নির্বাচন করুন
কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অনেক সময় দিশেহারা হয়ে পড়েন। আবার অনেকের কাছ থেকে অনেক রকম পরামর্শ শুনে হতে হয় বিভ্রান্ত। তাই নিজের পরামর্শদাতা নিজেই নির্বাচন করুন। এমন পরামর্শদাতা নির্বাচন করুন যাঁর অভিজ্ঞতা আছে, আপনাকে শেখানো মনোভাব আছে এবং আপনি যে ক্ষেত্রে সফল হতে চান, তিনি ইতিমধ্যে সে ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। যদি আপনার বিভাগের বস আপনার মেন্টর বা সেই কাঙ্ক্ষিত পরামর্শদাতা হন, তাহলে আপনি ভাগ্যবান। আর যদি তেমনটি না হয়, তাহলে আপনার প্রতিষ্ঠানের ভেতরের বা বাইরের অন্য কেউও হতে পারেন আপনার পরামর্শদাতা।

৭. সফট স্কিল ও হস্তান্তরযোগ্য স্কিলের চর্চা
আপনি হয়তো সারা জীবন একই প্রতিষ্ঠানে বা একই রকম মানুষের সঙ্গে কাজ করবেন না। নিজেকে এমনভাবে তৈরি করুন, যেন যেকোনো পরিবেশে এবং যেকোনো মানুষের সঙ্গে আপনি ভালোভাবে কাজ করতে পারেন। নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সফট স্কিল ও হস্তান্তরযোগ্য স্কিলের চর্চা করুন।

সফট স্কিল ও হস্তান্তরযোগ্য স্কিলের উদাহরণ হলো যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজের দক্ষতা, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, সৃজনশীলতা, চাপের মধ্যে কাজ করার ক্ষমতা, সময় ব্যবস্থাপনা, নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা, কাজের ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব ইত্যাদি। আর চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় নিজেকে তৈরি রাখুন।

৮. কাজকে ভালোবাসুন
কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে। আপনার নিজের প্রতিষ্ঠান হলে যেমন প্রচেষ্টা ও উদ্যম নিয়ে কাজ করে তা সফল করতে চাইতেন, ঠিক তেমনি আপনার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সফলতার জন্য একইভাবে প্রচেষ্টা ও উদ্যম নিয়ে কাজ করুন। সময়ের কাজ সময়ে করার মানসিকতা তৈরি করুন। চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো কিছু অর্জনের চেষ্টা করুন।

Comments

comments