‘মুসলমানদের ইচ্ছাকৃত ও হিংসাত্মকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে মোদি’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, মোদি সরকার তার কোভিড-১৯ সম্পর্কিত নীতির বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিক্রিয়া ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতীয় মুসলিমদের ইচ্ছাকৃতভাবে এবং হিংসাত্মক লক্ষ্যবস্তু করেছে।যা হাজার হাজার মানুষকে নিরুপায় ও ক্ষুধার্ত করে তুলেছে।

আজ সন্ধ্যায় নিজের টুইটার একটি পোস্টে মোদির কঠর সমালোচনা করে এমন মন্তব্য করেন।

মোদির এমন আচরণ জার্মানিতে ইহুদিদের প্রতি নাৎসিরা যা করেছিল তার অনুরূপ বলেও মন্তব্য করেন এই পাক প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই মোদী সরকারের বর্ণবাদী হিন্দুত্ববাদের চূড়ান্তবাদী আদর্শের আরও প্রমাণ রয়েছে।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তাবলিগ জামাতের একটি সমাবেশে যোগ দেওয়া অন্তত তিনশো জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ পাওয়ার পরে ওই ঘটনাটিকে ঘিরে সেদেশে মুসলমান বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে।

গণমাধ্যমের একটা অংশ এবং সামাজিক মাধ্যমে নানা মুসলিম বিদ্বেষী হ্যাশট্যাগ তৈরি হয়েছে, ছড়িয়ে পড়েছে নানা ভুয়ো খবর।

ভারতের মুসলমান নেতৃত্ব যদিও স্বীকার করছেন যে তাবলিগের ত্রুটি নিশ্চই হয়েছে, কিন্তু রাজধানীতে পুলিশ আর সরকারই বা কেন এই সময়ে ঐ সম্মেলন (মারকাজ) হতে দিল?

দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাতের মারকাজে যোগ দিয়ে নিজের রাজ্যে ফিরে যাওয়া কয়েকজনের শরীরে করোনা সংক্রমণ প্রমাণিত হওয়ার পরে ভারতের গণমাধ্যমে ওই ঘটনা খুবই গুরুত্ব পেতে শুরু করে।

এর আগে দিল্লির হিন্দুত্ববাদী তাণ্ডবের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপিকে দায়ী করেন প্রখ্যাত ভারতীয় লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট অরুন্ধতী রায়।

বুকারজয়ী এই লেখক সেখানকার ঘটনাকে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হিসেবে দেখতে নারাজ। সহিংসতার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এক কর্মসূচিতে দেওয়া ভাষণে রবিবার (১ মার্চ ২০২০) অরুন্ধতী বলেন, নির্লজ্জ ফ্যাসিস্ট মোদি সরকার দিল্লিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী মুসলিম জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

২৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর শুরু হওয়া হিন্দুত্ববাদী তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। এই তাণ্ডবের শুরু হয় বিজেপি নেতাদের উসকানিতে। এ ব্যাপারে সরকার ও পুলিশকেও নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। দিল্লির এই ঘটনাকে ভারতের করোনা ভাইরাস আখ্যা দিয়েছেন অরুন্ধতী।

Comments

comments