তিন মাস বেতন বন্ধ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ফরিদপুর চিনিকলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা। তিন মাসের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনার দাবিতে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে চিনিকলের প্রধান ফটকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের আওতায় দেশের ১৫টি চিনিকলের সঙ্গে ফরিদপুর চিনিকলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

এতে বক্তব্য রাখেন চিনিকল শ্রমজীবী ইউনিয়নের সভাপতি শাহ মো. হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক কাজল বসু, সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিন্টু, শ্রমিক নেতা আবুল বাশার বাদশা ও শাহিন মিয়া প্রমুখ।

জানা যায়, চিনি শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৩০ লাখ লোক রয়েছেন। আখচাষি থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাসহ এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই হতাশায় ভুগছেন। কারণ সময়মতো আখচাষিদের পাওনা পরিশোধ না করা, কর্মরতদের সময়মতো বেতন-ভাতা না পাওয়া, সময়মতো চিনি বাজার ধরে না রাখা ইত্যাদি।

বর্তমানে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দ্রব্যমূল্যে স্থিতিশীল না থাকায় একদিকে যেমন সমস্যা, অন্যদিকে দোকান থেকে দীর্ঘদিন বাকিতে নিত্যপণ্য কিনে মোটা অংকের দেনা হয়েছেন শ্রমিকরা। এ অবস্থায় নিত্যপণ্যের বাজার করতে পারছেন না চিনিশিল্পে কর্মরতরা।

চিনিকলে কর্মরত প্রায় আট শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন না পেয়ে আর্থিক সংকটে দিন অতিবাহিত করছেন। ঠিকমতো নিত্যপণ্যের বাজার না করতে পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। ইতোমধ্যে চিনিকলগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠন বাংলাদেশ চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ বেতন পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চেয়েছেন।

ফরিদপুর চিনিকলে আট কোটি টাকা পাওনা আখচাষিরা। স্থায়ী ও মৌসুমি এবং দৈনিক ভিত্তিতে কর্মরতদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় পাঁচ কোটি, অবসরপ্রাপ্তদের গ্র্যাচুইটি বাবদ প্রায় ১৮ কোটি টাকা বাকি রয়েছে।

এদিকে আখের মূল্য সময়মতো না পেয়ে আখচাষিরা আবাদ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এমনিতে আখ দীর্ঘমেয়াদি কৃষি ফসল। জমিতে দীর্ঘদিন রাখতে হয়। এরপর আখ মিলে সরবরাহ করার দীর্ঘসময় পর যদি আখের টাকা পায় তাহলে ওসব চাষিদের কষ্টের সীমা থাকে না।

ইতোমধ্যে বেতন-ভাতার বিষয়ে ফরিদপুর চিনিকল শ্রমজীবী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরারর স্মারকলিপি দিয়েছেন।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তফা মনোয়ার বলেন, শ্রমজীবী ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক থেকে প্রাপ্ত স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো হয়েছে।

চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও ফরিদপুর চিনিকল শ্রমজীবী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কাজল বসু বলেন, বেতন-ভাতা না পেয়ে আর্থিক সংকটের কারণে শ্রমিক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ফরিদপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল বারী বলেন, মিলের কর্মরতরা বেতন না পাওয়ায় অনেক কষ্টে দিন যাপন করছেন। বেতন-ভাতার বিষয়ে সদর দফতরে জানানো হয়েছে। চিনি বিক্রি করে বেতনভাতা দেয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে। চিনি বিক্রি হলে বেতন-ভাতা ও আখের মূল্য পরিশোধ করা হবে।

Comments

comments