করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষিত রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু এখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই অক্সিজেন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। করোনা আক্রান্ত এসব রোগী প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছটফট করলেও পর্যাপ্তসংখ্যক অক্সিজেন ফ্লো-মিটার সরবরাহের অভাবে তাদের অক্সিজেন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালটিতে অক্সিজেনের অভাবে বয়স্ক এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে-এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও নার্স জাগো নিউজকে বলেন, হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ভর্তি রোগীর সংখ্যানুপাতে ফ্লো-মিটারের প্রয়োজনীয় সরবরাহ না থাকায় অনেক রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন হলেও তা দেয়া যাচ্ছে না।

তারা জানান, করোনা পজিটিভ রোগীদের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে সিলিন্ডার থেকে ফ্লো-মিটারের মাধ্যমে তাদের সবসময় অক্সিজেন দিতে হয়। স্বাভাবিক রোগীর চেয়ে করোনা রোগীরা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ করেন। ফলে একজন রোগীকে অক্সিজেন দেয়ার সময় অন্য রোগী শ্বাসকষ্টে ভুগলেও তাদের কিছুই করার থাকে না। অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংকট না থাকলেও এগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ফ্লো-মিটার চেয়ে তারা স্টোরে চাহিদা দিয়েছেন, কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহ করা হয় না।

ওয়ার্ডে কর্তব্যরত একজন নার্স ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক সময় রোগীর স্বজনদের মুখে অভিযোগ শুনি, নার্সদের ডেকে পাওয়া যায় না। অক্সিজেন, মশারি, বালিশ, চাদর ইত্যাদি চেয়ে পান না। কিন্তু বাস্তবতা হলো স্টোর থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী কোনো কিছুই সরবরাহ করা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘১০০ জন রোগীর জন্য ৫০টি অক্সিজেন ফ্লো-মিটার চাইলে দেয়া হয় মাত্র ২০-২৫টি। চাহিদা পাঠালে উল্টো তাদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয় কেন তারা এত বেশি চাহিদাপত্র দেন। রোগীদের প্রয়োজনেই চাহিদা দিই, বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়। কিন্তু যত দোষ হয় আমাদের।’

কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে তারা নিজেরাই সন্তুষ্ট নন বলে জানান হাসপাতালটির চিকিৎসক-নার্সরা। তারা জানান, করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে গিয়ে নিজেরা সংক্রমণের ভয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকেন। তারপরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী না পেলে তাদের কিছুই করার থাকে না।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে অবস্থিত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে দিনকে দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে তিনটি করোনা পজিটিভ ওয়ার্ড, একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড, কেবিন ব্লক ও ইমার্জেন্সিতে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন।

তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী বিশেষ করে করোনা পজিটিভ ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্টের রোগীদের অক্সিজেন ফ্লো-মিটারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে চোখের সামনে রোগীদের ছটফট করে মরতে দেখা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না বলে মনে করছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক-নার্সরা।

এ ব্যাপারে জানতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদকেও।

Comments

comments