রমজানুল মোবারক: অনাহারীকে আহার দাও

মাওলানা মুহসিন আল জাবির

হে জান্নাতি চাঁদের আলো

পৃথিবীজুড়ে প্রশান্তির

মশালটা ফের জ্বাল।

রমজান দান-খয়রাতের মাধ্যমে আখেরাতের মুনাফা অর্জনের মাস, দুনিয়া অর্জনের মাস নয়। রমজান দয়া ও করুণার মাস। এ মাসে সায়েম অভাবী লোকের প্রতিদিনের দুঃখগুলো অনুভব করে নিজেকে উপবাস রেখে; ক্ষুধা ও পিপাসায় নিজেকে কষ্ট দিয়ে। সিয়াম সাধনা মানুষকে দানশীলতা, বদান্যতা, উদারতা ও মহত্ত্বের শিক্ষা দেয়। কোনোরকম অপচয় না করে রোজার মাসে মানুষের সেবায় দান-সদকা করলে অভাবক্লিষ্ট মানুষের কল্যাণ হয় এবং মানবতা উপকৃত হয়।

নবীজি (সা.) বলেন, ‘আমি তিনটি বিষয়ে শপথ করে বলছি, দান করলে সম্পদ কমে না। যখন কোনো মানুষের ওপর জুলুম হওয়ার পরও সে ধৈর্য ধরে তখন আল্লাহ সে কারণে তার সম্মান বাড়িয়ে দেন। আর যখন কোনো মানুষ শুধু শুধু নিজেকে অভাবী হিসেবে প্রকাশ করবে, তখন আল্লাহ তার জন্য অভাবের দুয়ার খুলে দেন।’

আমাদের আশপাশে অগণিত মানুষ ক্ষুধার্ত এবং অভাবের শিকার, আসুন তাদের প্রতি নজর দেই। সহস্র লোক বস্ত্রহীন, তাদের বস্ত্র দেই। আমাদের নবীজি (সা.) মাহে রমজানকে রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির মাস বলে ঘোষণা দিয়েছেন। মহান আল্লাহ এ মাসে মানুষকে রহমত করে অন্যের প্রতি দয়া ও রহমতের শিক্ষা দিয়েছেন। করুণা ও দয়ার উপদেশ দিয়েছেন।

হাদিসে এসেছে- ‘নবীজি (সা.) এমনিতেই বেশি পরিমাণে দান করতেন। যখন থেকে জিবরাইল (আ.) তার কাছে আসা শুরু করেন, তখন থেকে মাহে রমজানে তিনি প্রবহমান বাতাসের মতো উন্মুক্ত হাতে অধিকতর দাতা হয়ে যেতেন।’ মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান করো, তাহলে তা কতই না উত্তম। আর যদি তা গোপনে অসহায় ও অভাবীদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও বেশি উত্তম। আল্লাহ তোমাদের পাপ মোচন করবেন…’ (সূরা বাকারা-২৭১)।

একটা সময় এটা ভেবে আফসোস হবে, কষ্ট হবে- হায়! আমি কেন দান করে কল্যাণকামী হলাম না, সদকা করে ভালো মানুষের অন্তর্ভুক্ত হলাম না! মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় করো। অন্যথায় বলবে, হে আমার রব, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলেন না কেন? তাহলে আমি দান-সদকা করতাম এবং ভালো লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম’ (সূরা মুনাফিকুন-১০)। অথচ সেদিন আর এ সুযোগ ফিরে আসবে না।

হাদিসে এসেছে- ‘দানে কখনই সম্পদ কমে না। বান্দা যখন দানের হাত বাড়ায়, তখন সে দান অভাবীর হাতে পড়ার আগেই আল্লাহর হাতে পড়ে।’ আর আল্লাহ তো মানুষের সব বিষয়েই অবগত রয়েছেন। মাহে রমজানে দানের ফজিলত অনেক বেশি। তাই বছরের অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে বেশি বেশি দান-সদকা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। মাহে রমজানে নবীজির (সা.) দুয়ারে এসে কেউ খালি হাতে ফিরে যেতেন না। মাহে রমজানকে বলা হয় সহানুভূতির মাস। সমাজের অসহায়দের অর্থ দিয়ে সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস।

যে লোক শুধু প্রথাগত উপবাস করে। মাহে রমজানেও যে লোক দানশীলতা ও বদান্যতার চর্চা করে না, তার উপবাসকে সিয়াম সাধনা বলা যায় না। মাহে রমজানে উপবাসের সঙ্গে সঙ্গে দুস্থ, অসহায়দের সেবায় সাধ্যমতো দান-সদকা করাই হল প্রকৃত সিয়াম সাধনা।

লেখক : হাফেজ, মাওলানা, মুফতি; লেখক ও গবেষক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

Comments

comments