নদী ভাঙনরোধের ব্লক লুট করে বাড়ির রাস্তা তৈরি করল যুবলীগ নেতা

করোনা ক্রান্তিকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকা থেকে সরকারি সিসি ব্লক লোপাট করে ব্যক্তিগত কাজে লাগিয়েছে যুবলীগ নেতা সোহেল রানা মিঠু। তিনি সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা যুবলীগের সদস্য এবং ঢেকুরিয়া বাজারের বালু ব্যবসায়ী। তিনি যমুনা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করেন।

বুধবার সকালের দিকে ওই প্রকল্প এলাকা থেকে এই সিসি ব্লকগুলো তুলে নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন যুবলীগ নেতা সোহেল রানা মিঠু। এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের ধুনট উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অর্থায়নে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙনরোধে ২০১৬ সালে ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করেছেন। পাথরের সাথে সিমেন্ট ও বালু মিশ্রণে সিসি ব্লক তৈরি করা হয়। যমুনার তীরে মাটিতে জিও চট বিছিয়ে তার ওপর সেই সিসি ব্লক বাসানো হয়। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে যমুনা নদীর ভাঙন রোধ হয়ে থাকে।

এ অবস্থায় বুধবার সকালের দিকে সোহেল রানা মিঠু পুকুরিয়া গ্রামে যমুনা নদীর তীর থেকে কমপক্ষে ৩০০টি সিসি ব্লক তুলে ট্রাকযোগে নিয়ে গেছেন। তিনি ওই সিসি ব্লকগুলো ব্যক্তিগত রাস্তা মেরামত কাজে ব্যবহার করছেন। ওই রাস্তায় তার ব্যবসার বালু পরিবহনের জন্য ট্রাক চলাচলের ব্যবস্থা করছেন।

উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর বারিক বলেন, সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে। এতে যমুনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পেয়েছেন এলাকাবাসী। সেখান থেকে সিসি ব্লক তুলে নেওয়ায় প্রকল্পের ক্ষতি হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে যমুনা নদীর ভাঙনে স্থানীয়দের জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

যুবলীগ নেতা সোহেল রানা মিঠু বলেন, নদীর তীরে সিসি ব্লকগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। সেখান থেকে তুলে নিয়ে লোকজনের চলাচলের রাস্তা মেরামত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের কোনো ক্ষতি কিংবা নদী ভাঙনের শঙ্কা নেই। তারপরও স্থানীয় লোকজন শত্রুতা করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

comments