করোনায় প্রাণ হারালেন আরও দুই পুলিশ সদস্য

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আরও দুই সদস্য। তারা হলেন- ডিএমপির পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) কর্মরত এসএসআই আব্দুল খালেক (৩৬) এবং ট্রাফিক উত্তরের এয়ারপোর্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করা কনস্টেবল আশেক মাহমুদ (৪২)।

পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এএসআই মো. আবদুল খালেক ডিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট দক্ষিণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। গত ২৮ এপ্রিল তার শরী‌রে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হলে তা‌কে আই‌সো‌লেশ‌নে রাখা হয়। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে আই‌সো‌লেশ‌নে থে‌কে চি‌কিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার বেতাগী থানার ঝোপখালি গ্রামে।

কনস্টেবল মো. আশেক মাহমুদ ডিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগে কর্মরত ছিলেন। জ্বর থাকায় গত ২৬ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরের দিন পরীক্ষায় তার কোভিড-১৯ পজিটিভ আসায় তা‌কে আই‌সো‌লেশ‌নে রাখা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (২৯ এপ্রিল) তাকে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিনই রাত সাড়ে ১০টায় মৃত্যুবরণ করেন। তার গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ইন্দ্রাবাড়ি গ্রামে। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন।

এসআই আবদুল খালেক এবং কনস্টবল আশেক মাহমুদের জানাজা আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় রাজারবাগে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পুলিশের ব্যবস্থাপনায় তাদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহ দাফন করা হবে।

এর আগে ডিএমপির ওয়ারী থানার কনস্টেবল জসিম উদ্দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ২৮ এপ্রিল রাতে মৃত্যুর পর ২৯ এপ্রিল সকালে তার করোনা টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ আসে। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মোট তিন পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হলো।

পুলিশ সদর দফতরের দেওয়া হিসাবে, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তিনশ ছাড়িয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত পুলিশের সংখ্যা ৩৩৬। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন এমন সংখ্যাই বেশি।

Comments

comments