আফ্রিকায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ব্যর্থ হলে আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলো বড় সংকটে পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠনটির হিসেব মতে, যথাযথ পদক্ষেপ না দিলে প্রথম বছরেই প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মহাদেশটিতে মৃত্যু দাঁড়াতে পারে ২ লাখের কাছাকাছি।

কঙ্গোর ব্রাজাভিলেতে ডব্লিউএইচও’র আঞ্চলিক অফিস তাদের গবেষণায় জানিয়েছে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ব্যর্থ হলে আফ্রিকা মহাদেশে প্রথম বছরে মৃত্যু দাঁড়াতে পারে ৮৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার। আর এই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৯০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৪০ লাখ!

আফ্রিকা মহাদেশে ৪৭টি দেশে এক শ কোটি মানুষের বাস। গবেষণাভিত্তিক অনুমানের ওপর ভিত্তি করে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই পূর্বানুমান করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

নাজুক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, অতি দারিদ্র্য, নানা সংঘাত ও আগের সব মহামারির ক্ষেত্রে তাদের দৈন্যদশার কারণে বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে এবারও আফ্রিকা করোনার প্রকোপ মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত আফ্রিকার দেশগুলোতে করোনার আক্রমণ ধীর গতিরই দেখা যাচ্ছে। ইউরোপ, আমেরিকা ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এই অঞ্চল থেকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর কমই আসছে।

ডব্লিউএইচও’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংক্রমণের এই ধীর গতি জানান দিচ্ছে এখানে করোনা পরিস্থিতি প্রলম্বিত হতে পারে। সেদিক বিবেচনা করেই এই পূর্বানুমান করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচও’র আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক মাতশিদিসো বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আফ্রিকায় এখনো কভিড-১৯ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়লেও এই অঞ্চল করোনার হটস্পটে পরিণত হতে পারে।

কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ না নিলে ছোট ছোট দেশগুলোর পাশাপাশি আলজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ক্যামেরুনও করোনাভাইরাসের বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এএফপি’র তথ্যমতে, আফ্রিকায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৩ হাজার। মৃত্যু হয়েছে ২০৬৫ জনের।

Comments

comments