করোনার ভয় দেখিয়ে চলছে হিজড়াদের ‘চাঁদাবাজি’

করোনার ভয় দেখিয়ে রাজধানীর মিরপুরে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে গায়ে হাত দিয়ে ঈদ বকশিশের নামে ‘চাঁদাবাজি’র অভিযোগ উঠেছে হিজড়াদের বিরুদ্ধে।

রোববার মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরে ‘চাঁদা’ আদায়ে নামেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হিজড়াদের টার্গেট বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। স্থানীয়রা হিজড়াদের ‘চাঁদাবাজিতে’ অতিষ্ঠ। চাহিদানুযায়ী টাকা না দিলে অপমান-অপদস্থ হতে হয়। করোনার মতো হিজড়াদের নিয়েও আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ– বকশিশ না দিলে হিজড়ারা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে গায়ে হাত দেয়; এমনকি জড়িয়েও ধরে। এতে করোনা সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সূত্র জানায়, মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরে ঈদের খরচ জোগাতে প্রতিনিয়ত দলবেঁধে বাসাবাড়িতে যাচ্ছেন হিজড়ারা। এ বছর দোকানপাট বেশিরভাগ বন্ধ থাকায় ফ্ল্যাটবাড়ি টার্গেট করেছেন তারা। আগের দিন বাড়ির মালিককে তারা জানান দিয়ে আসেন; পর দিন টাকা নিতে আসবেন। এ জন্য ফ্ল্যাটপ্রতি টাকা ধার্য করে দেন হিজড়ারা।

রোববার মিরপুর ১২ নম্বর ‘বি’ ব্লকের ছয়তলা ভবনের একটি বাড়িতে ৪-৫ জনের একটি হিজড়া গ্রুপ অতর্কিতভাবে ঢুকে পড়ে। গেটের দারোয়ান বাধা দিলেও গালমন্দ করে তারা ভেতরে ঢুকে।

এ সময় হিজড়ারা বাড়ির মালিককে খুঁজতে থাকে। ওই সময় বাড়ির মালিক বাসায় ছিলেন না। একপর্যায়ে হিজড়ারা বাড়ির গেটের সামনে শুয়ে পড়ে। এ জন্য অনেকক্ষণ বাড়ির ভেতর কেউ ঢুকতে বা বের হতে পারেনি।

এক ভাড়াটিয়া বাড়ি থেকে বের হতে চাইলে হিজড়ারা করোনার ভয় দেখিয়ে তাকে বের হতে দেয়া হয়নি। উপায়ান্তর না দেখে দারোয়ান হিজড়াদের ২০০ টাকা দিতে রাজি হয়। অবশ্য হিজড়ারা তা মানেননি। ফ্ল্যাটপ্রতি এক হাজার টাকা ধার্য করে হিজড়ারা। পরের দিন আবার আসবেন বলে চলে যান তারা।

স্থানীয় গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আলিম উদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহে ৪-৫ জন হিজড়া অফিসের দারোয়ানকে ধাক্কা মেরে আমার রুমে ঢুকে পড়ে। ঈদের খরচের জন্য দুই হাজার টাকা দাবি করে তারা।

আমি মোবাইলে পল্লবী থানায় ব্যাপারটি জানালে অপরপ্রান্ত থেকে ডিউটি অফিসার জানালেন ওদের আটক করে মাইর দিন। এর পর আমি লাইন কেটে দিই। ততক্ষণে হিজড়ারা ফোনের ব্যাপারটি বুঝতে পেরে হাততালি দিয়ে অশ্লীল নৃত্য ও বাজে অঙ্গভঙ্গি করে। সন্মানের কারণে সিদ্ধান্ত পাল্টে টাকা দিতে রাজি হই। রফাদফা শেষে ১৫০০ টাকা দিয়ে বিদায় করি।

মিরপুর ১২ নম্বরের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, হিজড়ারা বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি সপ্তাহে চাঁদা তোলে। এটি তাদের রুটিন ওয়ার্ক। সবাই কমবেশি সাহায্য করেন। ১০-২০ টাকা পর্যন্ত দেয়।

এ মাসের শুরুতে হিজড়াদের চাঁদাবাজির ধরন পাল্টেছে। নিয়মিত যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় করত, সেগুলোর বেশিরভাগ বন্ধ থাকায় বাসাবাড়িতে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। আর চাঁদার রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০-১০০০ টাকা। কারও কম দেয়ার সুযোগ নেই। কেউ টাকা দিতে না চাইলে অনেক হিজড়া একসঙ্গে জড়ো হয়ে ওই এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

ডিএনসিসির ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক বলেন, হিজড়াদের কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা কথায় কথায় শরীরে হাত দেয়। সব হিজড়াকে দ্রুত কোয়ারেন্টিনে পাঠানো উচিত। পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, হিজড়াদের ব্যাপারে মাঝেমধ্যে অভিযোগ আসে। পুলিশ ব্যবস্থা নেয়। ঈদ উপলক্ষে চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments