সাতক্ষীরায় তাণ্ডব চালিয়ে আম্ফান এখন রাজশাহীতে, মৃত্যু বেড়ে ৯

সুপারসাইক্লোন আম্পানের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভেঙেছে অনেক বাড়িঘর, গাছপালা। রাতভর সাতক্ষীরার উপকূলে তান্ডব চালিয়ে এখন রাজশাহী অঞ্চলে অবস্থান করছে। তবে গতি অনেকটা কমে গেছে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস। যত উত্তর দিকে যাবে, শক্তি আরও কমে যাবে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার সারাদিনই আবহাওয়া বৈরী থাকতে পারে।

সারারাত ঝড়ের তাণ্ডবের পর গতি কমে আম্পানের বাতাসের গতিবেগ এখন ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। এটি আরও উত্তরদিকে সরছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছেন, স্থল নিম্নচাপ হিসেবে আম্পান বাংলাদেশের উত্তর দিকে গিয়ে শক্তি হারাবে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে যশোরের যশোর চৌগাছার চাঁদপুর গ্রামে ঘূর্ণিঝড়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- মৃত ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী খ্যান্ত বেগম (৪৫) ও তার মেয়ে রাবেয়া (১৩)।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাতে ঝড়ের সময় ঘরে ছিলেন তারা। রাত ১০টার দিকে ঘরের পাশের একটি গাছ ভেঙে পড়ে ঘরের ওপর। এ সময় মা ও মেয়ে নিহত হয়। তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চৌগাছা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিফাত খান রাজীব। উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালি ও ভোলায় দুজন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পটুয়াখালিতে নিহত দুজনের মধ্যে একজন গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকার শিশু রাশেদ (৬)। গাছের ডাল ভেঙে পড়ে তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। নিহত অপরজন ধানখালীর ছৈলাবুনিয়া এলাকার স্বেচ্ছাসেবী শাহ আলম। পটুয়াখালিতে বর্তমান অবস্থা ভালোর দিকে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে, সাগর কিছুটা উত্তাল।

ভোলায় বুধবার ঝোড়ো হাওয়ার সময় গাছে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধ মো. সিদ্দিক ফকিরের (৭০)। তিনি চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চর মানিকা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চর কচ্ছপিয়া গ্রামের বাসিন্দা। আম্পানের প্রভাবে নিহত হওয়া একই জেলার অপরজন হলেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাসাননগর গ্রামের আবু কালামের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫)। ট্রলারডুবিতে তার মৃত্যু হয়।

ভোলার বর্তমান পরিস্থিতিও স্বাভাবিক বলে জানা গেছে। বাতাসের ক্ষিপ্রতা কমে এসেছে। সাগরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে শুরু করেছে।

বুধবার সন্ধ্যায় ঝোড়ো বাতাসের মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে গাছচাপা পড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড়ে অনেক বাড়িঘর, গাছপালা ভেঙে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে অনেক মাছের ঘের। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় দেয়ালে চাপা পড়ে শাহজাহান মোল্লা (৫৫) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. মাসুদুজ্জামান।

এ ছাড়া মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে বরগুনার সদর উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্র যাওয়ার পথে এক ব্যবসায়ী ‘অসুস্থ হয়ে’ মারা যান। বরগুনা সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার জানান, নিহত শহীদুল ইসলাম (৬৪) আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন।

পূর্বাভাসে বলা হয়, মধ্যরাতে আম্পান ঝিনাইদহ এবং এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে এটি আরও উত্তরদিকে সরে এখন রাজশাহী, পাবনা অঞ্চলের দিকে আছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের আধিক্য বিরাজ করছে। সাগর এখন উত্তাল। এ কারণে এখনো মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১০ এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জন্য সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আম্পানের কেন্দ্র ভারতের মধ্য দিয়েই যাওয়ার কারণেই প্রথম দিকের ঝড়ের যে তীব্র গতি সেই ধাক্কা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যায়নি।

বুধবার রাত নয়টায় ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি ঘণ্টায় ১৫১ কিলোমিটার গতিবেগে সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত করে। এ সময় ১২ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস ছিল। এর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপে প্রথম আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়টি। সুন্দরবন দিয়ে অতিক্রম করার কারণে আম্পানের তাণ্ডব কিছুটা কম হয়েছে।

Comments

comments