হাঁটু চেপে দম আটকে কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে মারল শ্বেতাঙ্গ পুলিশ (ভিডিও)

জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কৃষ্ণাঙ্গ এক পুরুষকে সিনেমাটিক কায়দায় হাঁটু চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার শ্বেতাঙ্গ এক পুলিশ অফিসার। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সোমবারের ওই ঘটনায় মিনেসোটার রাজধানী মিনেপোলিসের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, তাতে জড়িত চার পুলিশ অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা এখন ‘সাবেক সদস্য’।

তবে পুলিশ অফিসারদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। নিহত যুবক জর্জ লয়েডের পরিবারের আইনজীবী ভিডিওতে দেখা দুজনের নাম শনাক্ত করেছেন- ডেরেক চাওভিন ও ট থাও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, জর্জ ফ্লয়েড নামে কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের শরীর গাড়ির নিচে রেখে গলা বের করে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেছেন এক পুলিশ। শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারকে ফ্লয়েড বলছিলেন- “আমি দম নিতে পারছি না।”

পুলিশ হেফাজতে এই ঘটনা ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কে গ্রেপ্তারের সময় নৃশংস কায়দায় কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ এরিক গার্নারের হত্যার ঘটনাটি মনে করিয়ে দিচ্ছে। কনুই দিয়ে চেপে ধরে দম বন্ধ করে নিউ ইয়র্কের পুলিশ হত্যা করেছিল গার্নারকে। প্রাণভিক্ষা চেয়েও রক্ষা পাননি তিনি।

ঠিক একই কায়দায় হত্যা করা হলো ফ্লয়েডকে। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় ঘটা মিনেপোলিসের ঘটনাটি তদন্ত করবে তারা।

মিনেসোটা পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর ‘মেডিকেল ইনসিডেন্টে’ তার মৃত্যু হয়েছে ৪৬ বছর বয়সী ফ্লয়েডের। তিনি একটি রেস্টুরেস্টে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

ঘটনায় জড়িত চার পুলিশ সদস্যকে বরখাস্তের খবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টুইট করে নিশ্চিত করেছেন মিনেসোটার মেয়র জ্যাকব ফ্রে’ও- “এটা সঠিক সিদ্ধান্ত।”

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটিকে ‘পুরোপুরি ও খুবই হতবিহ্বল’ হওয়ার মতো বলে উল্লেখ করেন ফ্রে- “কালো হওয়ার কারণে আমেরিকায় কারও মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত হতে পারে না।”

ফ্লয়েডকে জালিয়াতির অভিযোগে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশের গাড়ির নিচে তাকে যখন হাঁটু দিয়ে দম চেপে ধরা হয়েছিল তখন খালি গায়ে ছিলেন তিনি। গুঙিয়ে গুঙিয়ে বলছিলেন- “প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ আমি শ্বাস নিতে পারছি না। দয়া করো।”

এর কয়েক মিনিট পর একজন পুলিশ অফিসারকে বলতে শোনা যায়- ‘রিলাক্স’।

ফ্লয়েড জবাব দেন- “ম্যান, আমি দম নিতে পারছি না।”

কিছুক্ষণের মধ্যেই নিথর হয়ে যান ফ্লয়েড। গলায় চেপে ধরা হাঁটু তুলে আনেন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারটি।

Comments

comments