লকডাউনের সুযোগে ভারতীয় বাঙালিদের রাষ্ট্রহীন করার চেষ্টা!

গত ৪ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে অভিযোগ করা হচ্ছে, “ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ মানুষকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।” ৪ এপ্রিল, ২২ এপ্রিল ও ২ মে বিভিন্ন বাংলাদেশী গণমাধ্যমে এই ধরণের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ থেকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ব্যক্তিদের বাংলাদেশে পুশ-ব্যাকের (বাংলাদেশী পয়েন্ট অব ভিউ থেকে পুশ-ইন) চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ৷ তবে ২ মে একমাত্র প্যানইন্ডিয়ান দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে দাবি করা হয় যে, ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ব্যক্তিকে ভারতে পুশ-ইন করার চেষ্টা চালিয়েছে৷

দুই তরফে পাল্টা অভিযোগ উঠেছে! ব্যাপারটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। যার সঙ্গে শুধুমাত্র দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কের কূটনৈতিক টানাপোড়েন জড়িয়ে তাই নয়, বরং ভারতীয় বাঙালি ও বাংলাদেশের বাঙালিসহ সকল বাংলাদেশীর স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে৷

সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের বাংলা ভাষার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে পরস্পর বিরোধী যে প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হয়েছে তা দেখে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে ভারতের তরফে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রতি অভিযোগ ও পাল্টা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রতি বাংলাদেশের অভিযোগ আসলে দুই রাষ্ট্রের মধ্যেকার কূটনীতিক ভুল বোঝাবুঝির বিষয়৷ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে এমনটাই মনে হতে পারতো৷
কিন্তু আমরা জানি, এই ধরণের নিরপেক্ষতা আসলে ঘটনার মীমাংসা করতে পারে না৷ ঘটনাকে এড়িয়ে যেতে সাহায্য করে৷ তাই এই বিষয়ে কাণ্ডজ্ঞান থেকে আমার যা মনে হচ্ছে সেগুলো এই রকম-

১. বাংলাদেশের একাধিক জাতীয় দৈনিকে প্রথমে দাবি করা হয়েছে যে, বিএসএফ কর্তৃক ভারতীয় সীমানা থেকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ মানুষকে বাংলাদেশে পুশ-ব্যাক করা হয়েছে বা করার চেষ্টা চলেছে৷ বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে এহেন মারাত্মক অভিযোগের পর সর্বভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে উল্টাটা দাবি করা হচ্ছে যে, বিজিবি কর্তৃক বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের ভারতে পুশ-ইন করা হচ্ছে!

এখন যদি বিজিবির বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে হয় সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠবে- বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমে বিএসএফের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠার পরে কেন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ কথা বললো? এতদিন কোথায় ছিল তারা? বিএসএফ’ইবা বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে এতদিন মুখ খোলেনি কেন? কী কারণে অন্যকোনো সর্বভারতীয় মিডিয়ায় এই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি?

ঘটনা যা তাতে বিএসএফের তো প্রেস মিট করে সবকটি ভারতীয় মুদ্রণ ও বৈদ্যুতিক মাধ্যমকে অবগত করার কথা ছিল৷ তার মানে এ ক্ষেত্রে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের অভিযোগকে পাল্টা অভিযোগ দিয়ে উড়িয়ে দিতে চেয়েছে বিএসএফ!

২. এই সন্দেহ আরও জোরালো হচ্ছে কারণ, মোদী-শাহ যেভাবে ফেইক বাংলাদেশ অনুপ্রবেশ তত্ত্বের মাধ্যমে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ-ফোবিয়া তৈরি করে ভারতের অন্দরে থাকা সর্ববঙ্গীয় পরিসরের বড় অংশের বাঙালিসহ সকল বাংলা ভাষী মানুষকে অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরার বাংলাভাষী মানুষকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসাবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রহীন করতে চায়, যাকে ফলাও করে ‘জাতীয় নাগরিক পঞ্জি’র (এনআরসি) কাজ হিসাবে প্রচার করা হচ্ছে, সেই অপরাজনীতি বা বাঙালি বিদ্বেষী হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানি রাজনীতির একটা ছোটখাটো নমুনা এইটা, যা ভয়ঙ্কর।

লকডাউনের সুযোগ নিয়ে ভারতের বাঙালি/বাংলাভাষী ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ মানুষকে বাংলাদেশে বিএসএফকে দিয়ে পুশ-ইন করানোর মাধ্যমে ভারতীয় বাঙালিদের রাষ্ট্রহীন করার কাজটা যেমন সারা হচ্ছে, তেমনই বাংলাদেশের দ্বারা এই উদ্যোগ প্রতিহত হয়ে উল্টো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দিকেই একটি সর্বভারতীয় মিডিয়াকে দিয়ে আঙুল তোলানো হচ্ছে, যাতে বানোয়াট সংবাদকে সামনে রেখে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানি ফ্যাসিবাদী চক্র নতুন করে বাংলাদেশ ফোবিয়া সৃষ্টি করে ভারতীয় বাঙালি/বাংলা ভাষীদের বিরুদ্ধে নতুন করে এনআরসির ষড়যন্ত্র শুরু করা যায়৷ করোনার লকডাউনকে কাজে লাগিয়ে এই ঘৃণ্যকাজ করা হচ্ছে বলে সন্দেহ৷

৩. বিএসএফ নানা সময়ে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকার ভারতীয় বাঙালিদের ওপরে জুলুম চালিয়ে আসছে৷ পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাভাষী বিএসএফ মোতায়েন করা হয় না৷ বরং ইউপি, বিহার, রাজস্থান, হরিয়ানা, পঞ্জাবের অবাঙালি বিএসএফকে মোতায়েন রাখা হয়৷ যার ফলে তারা খোদ ভারতের অন্দরে থাকা বাংলা অঞ্চলগুলোর মানুষকেও ভাবে তাদের উপনিবেশের দাসানুদাস, তাই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, জুলুম ইত্যাদি চলতেই থাকে। আর সীমান্তের ওপারের বাঙালির উপরে বিএসএফের এই অত্যাচার আরও মারাত্মক৷ এই কারণে ভারতের অন্দরেই দাবি উঠেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবশ্যই বাংলা ভাষী বিএসএফ মোতায়েন করতে হবে। নইলে দুই বাংলার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য ব্যাহত হবে এবং হিন্দুত্ববাদীদের বাঙালি বিদ্বেষ চলতেই থাকবে৷ সম্ভবত এই ধরণের বাঙালি বিদ্বেষের নমুনা এই ধরণের ঘটনা- লকডাউনের সুযোগে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় বাঙালিকে পুশ-ব্যাক করার চেষ্টা! অন্তত এমন আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে৷

এই আশঙ্কার পেছনে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে উঠে আসছে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় নাগরিক পঞ্জি’ বা এনআরসি’র বিষয়টি৷ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, করোনা কেন্দ্রিক লকডাউন শুরু হওয়ার আগে অবধি এনআরসি-এনপিআর ও সিএএ বিরোধী আন্দোলনে পশ্চিমবঙ্গ উত্তাল ছিল৷ শুধুই পশ্চিমবঙ্গ নয় গোটা ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র এই আন্দোলনে মুখরিত হয়ে উঠেছিল। আমরা জানি, এনআরসি প্রথম চালু হয় আসামে৷ ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্য আসামের শিলচরে বা বরাক উপত্যকায় এই এনআরসির দ্বারা ১৭ লাখ বাঙালির ভারতীয় নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রহীন করা হয়৷

নাগরিকত্ব থেকে বাদ পড়া বহু বাঙালির জায়গা হয় ডিটেইনশন ক্যাম্পে৷ নাগরিকত্ব থেকে বাদ পড়া ১৭ লাখ বাঙালির মধ্যে ১২ লাখ বাঙালি হিন্দু ও ৫ লাখ বাঙালি মুসলিম৷ ফলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এনআরসির উদ্দেশ্য ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে বাঙালিকে রাষ্ট্রহীন করা! আসামের পর পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি চালু করার কথা বলা হয়৷ এনআরসির প্রাথমিক ধাপ হিসাবে জাতীয় জনপঞ্জি বা এনপিআর প্রক্রিয়া চালু করার ব্যাপারে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়৷

এই এনআরসি ও এনপিআর-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় পশ্চিমবঙ্গের জনমানসে। শুরু হয় আন্দোলন৷ এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিক সংশোধনী আইন (সিএএ) পাশ করে এবং এনআরসিকে আসামের বদলে গোটা ভারতে চালু করার কথা বলে৷ আসামের এনআরসি বাতিল করে গোটা ভারতের সঙ্গে সেখানে নতুন করে এনআরসি চালু করার কথা বলা হয়৷ কিন্তু দেখা যায় নাগরিকত্ব থেকে বাদ পড়া আসামের বাঙালির নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি এবং ডিটেইনশন ক্যাম্প থেকেও কাউকে মুক্ত করা হয়নি৷ সিএএ চালু হওয়ার পর বোঝা যায় এনআরসি, এনপিআর ও সিএএ একত্রিতভাবে যেমন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভারতের সকল বাঙালির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র, তেমনই সকল জাতিসত্ত্বা নির্বিশেষে এগুলো ভারতের ইসলাম বিদ্বেষী মানুষের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র! অর্থাৎ বাঙালি হিন্দু, বাঙালি মুসলিমসহ সকল বাঙালিকে যেমন রাষ্ট্রহীন করতে চায় ভারত সরকার, তেমনই সকল ভারতের সকল জাতির মুসলিমের ভারতীয় নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে চাইছে আরএসএস-বিজেপির দ্বারা পরিচালিত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার৷ আর তাই ভারতের কেন্দ্রীয় শাসক দল কর্তৃক একই সঙ্গে বাঙালি বিদ্বেষ ও মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানো শুরু হয়৷ বাঙালিকে রাষ্ট্রহীন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশের ভুয়া তত্ত্ব ও তথ্য ছড়িয়ে বাংলাদেশ-ফোবিয়া ছড়ানো শুরু হয় ইসলামো ফোবিয়ার পাশাপাশি৷ এই এনআরসি, এনপিআর ও সিএএ’র বিরুদ্ধে গোটা ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র গণআন্দোলন শুরু হয়৷ দিল্লির শাহিনবাগে, কলকাতার পার্কসার্কাসে- এরকম বহু জায়গায় মুসলিম মা-বোনেদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া গণঅবস্থানে ভয় পেয়ে যায় ভারত সরকার৷ যার পরিণতিতে দিল্লিতে গণহত্যা ঘটনা ঘটে৷ এসবের পরেই করোনাকে কেন্দ্র করে গোটা ভারতে চালু হয় লকডাউন।

কিন্তু লকডাউনের মধ্যেও ইসলাম বিদ্বেষ, বাঙালি বিদ্বেষ ও বাংলাদেশ ফোবিয়ায় লাগাম টানেনি বিজেপি৷ বরং লকডাউনের সুযোগে এই জাতিবাদী ও ধর্মীয় বিদ্বেষের প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ তাবলিগি জামায়াতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ করোনা সঙ্কট শুরু হওয়ার পরেও নিজামুদ্দিন মসজিদে জামায়াতের অনুমোদন দিয়েছে৷ অথচ বিজেপি ও প্রশাসনের একাংশ প্রচার করতে থাকে জামায়াত থেকে করোনা ছড়িয়েছে, এর জন্য মুসলমানরা দায়ী। যদিও পরে দেখা যায় তাবলিগের জামায়াত থেকে করোনা ছড়ায়নি উল্টো সংকটকালে তবলিগের ভারতীয় স্বেচ্ছাসেবকরা প্লাজমা ডোনেট করে চলেছেন, কিন্তু এতো কিছুর পরেও ইসলাম বিদ্বেষে রাশ টানেনি বিজেপি ও পেইড মিডিয়া।

একইভাবে বাঙালি বিদ্বেষ ও বাংলাদেশ ফোবিয়া ছড়িয়ে যাচ্ছে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানি গোষ্ঠী। পশ্চিমবঙ্গের যেসব বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে আটকে পড়েছিলেন তাদের বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী বলেও দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের অন্দরে একইভাবে করোনা ও লকডাউনের সুযোগে জাতিবাদী, বর্ণবাদী ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়িয়ে চলেছে বিজেপি। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নানাভাবে ম্যালাইন করার চেষ্টাও চলছে বিজেপির তরফে! অথচ কেন্দ্র থেকে রাজ্যে পর্যাপ্ত কিট আসছে না, কেন্দ্রীয় সাহায্য তো দূরের কথা পশ্চিম বাংলার মানুষের জন্য রাজ্যের বরাদ্দ ত্রাণ লুঠ করছে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানি লুঠেরা গ্যাং বিজেপি।

এছাড়াও কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ ফেরত পাচ্ছে না রাজ্য সরকার। লকডাউনের বিধি অমান্য করে রাজ্যে ঘুরে বেরিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল৷ করোনা আক্রান্ত রেল পুলিশের জওয়ানদের ভিন রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে পুশ-ইন করানো হয়েছে যাতে বাংলায় করোনা ছড়িয়ে যায়।

সুতরাং বাংলা বিদ্বেষ, বাঙালি বিদ্বেষ, বাংলাদেশ ফোবিয়া ও ইসলামো ফোবিয়ার অস্ত্রে আরএসএস-বিজেপির যে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানি রাজনীতি, যার দ্বারা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয়, গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী কাঠামোকে ধ্বংস করে হিন্দি ভাষার রাষ্ট্র, উচ্চবর্ণীয় হিন্দুদের রাষ্ট্র বা ব্রাহ্মণ্যবাদী রাষ্ট্র ও গোবলয় মার্কা রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়, লকডাউনের মধ্যেও তাদের সেই কাজ অব্যহত৷ এই সকল কারণগুলোর কথা মাথায় রাখলে এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না যে বাঙালি বিদ্বেষী ও বাংলাদেশ ফোবিয়ার মাস্টার মাইন্ড বিজেপি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের অন্দরে থাকা আসাম-ত্রিপুরার মতো বাংলা ভাষী রাজ্যের আন্তরাষ্ট্রীয় সীমান্ত দিয়ে বাঙালি/বাংলা ভাষীকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে পুশ-ব্যাক করতেই পারে। আর বিএসএফের বাঙালি বিদ্বেষের নানা দৃষ্টান্ত থেকেও এই আশঙ্কা জোরালোই হয়।

লেখক:অতনু সিংহ; কবি, সাংবাদিক, সমাজকর্মী
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ থেকে

Comments

comments