স্বামী-বাপের বাড়ির কবরস্থানে জায়গা হলো না করোনায় মৃত গৃহবধূর

করোনাভাইরসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মনোয়ার মরদেহ দাফন হলো না স্বামী কিংবা বাবার গ্রামের মাটিতে। দুই গ্রামের মানুষের বাধার কারণে অবশেষে কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন হলো তার মরদেহ।

মনোয়ারা বেগম (৩০) নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ি গ্রামের মোজেদুলের মেয়ে এবং একই উপজেলার কাঁঠালী ইউনিয়নের দেশীবাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের স্ত্রী।

মনোয়ারার স্বামী শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে মারা যায় আমার স্ত্রী মনোয়ারা।

রংপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে দুপুরে জলঢাকার বগুলাগাড়ি গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে নিতে চাইলে গ্রামের মানুষ মরদেহ প্রবেশে বাধা দেয়।

সেখানে বাধা পেয়ে স্ত্রীর মরদেহ আমার নিজ ইউনিয়ন কাঁঠালিতে নিতে চাইলে সেখানেও বাধা দেয় আমার এলাকাবাসী।

তিনি বলেন, তাদের এমন বাধায় স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে জলঢাকা পৌরসভা মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল কমেট চৌধুরীকে মুঠোফোনে কল করেছি কয়েক বার কিন্তু তিনি কল ধরেননি। এরপর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুরকে ফোনে করে বিষয়টি অবগত করি। তিনি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় আমার স্ত্রীর মরদেহ দাফন করান জলঢাকা স্টেডিয়াম সংলগ্ন কেন্দ্রীয় কবরস্থানে।

তিনি আরও জানান, আমি আমার স্ত্রী ঢাকায় একটি পোশাক তৈরি কারখানার শ্রমিক। গত ৫ জুন ঢাকা থেকে বাসযোগে সন্তানসহ আমরা স্বামী-স্ত্রী জলঢাকায় ফিরছিলাম। পথে স্ত্রী মনোয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। করোনার উপসর্গ সন্দেহে গত ৬ জুন তার নমুনা সংগ্রহ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ৮ জুন নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে তার করোনা শনাক্ত হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার মারা যায় মনোয়ারা।

জলঢাকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর জানান, দুই গ্রামের বাধা পেয়ে অবশেষে স্ত্রীর মরদেহ দাফনের জন্য জলঢাকা কেন্দ্রীয় কবর স্থানে নিয়ে আসে শরীফুল। এখানেও মরদেহ দাফনে বাধা প্রদান করে স্থানীয়রা।

আমি খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন এবং থানা পুলিশের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বাদ মাগরীব মনোয়ারার মরদেহ দাফন করায়। এর আগে সেখানে মনোয়ারা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।’

Comments

comments