হাজী দানেশের ২ শিক্ষার্থীকে হত্যা: দুই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রিমান্ডে

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবু ইবনে রজব ও সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সুজনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুর আমলী আদালত-১ (সদর) এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসাইন সোমবার দুপুরে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়াও কোতোয়ালি থানা পুলিশের আবেদনের পরেপ্রেক্ষিতে ওই ২ নেতাকে একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

এর আগে সিআইডি’র দিনাজপুর জেলা পুলিশ পরিদর্শক রমজান আলী তাদেরকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। এছাড়াও কোতোয়ালি পুলিশ তাদেরকে ৭

দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায়।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ২টায় দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার এলাকায় নিজ মালিকানাধীন হোটেল আফিয়া ইন্টারন্যাশনাল থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু ইবনে রজব ও বিকেল ৪টায় শহরের সুইহারী আশ্রম পাড়ার নিজ বাসা থেকে দিনাজপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে বিকেল সাড়ে ৪টায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে। এসময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক রজবের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে হত্যা ও বোচাগঞ্জে ছাত্রদল নেতাকে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ৬টি মামলা রয়েছে। আর সুজনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও জমিদখলসহ ৫টি মামলা রয়েছে। হাবিপ্রবি’র দুই ছাত্রকে হত্যার ঘটনার মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। সিআইডির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক ওই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে রাত ৮ টার দিকে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ সশস্ত্র হামলা চালায়। এসময় তারা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও ফাঁকা গুলি করে এবং ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের মারধর করে। এর জবাবে অপর একটি গ্রুপ প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া শহীদ নুর হোসেন হলে ও কৃষি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসান মিল্টন দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

নিহত জাকারিয়া দিনাজপুর শহরের গুড়গোলা এলাকার মোস্তাকের ছেলে ও মাহমুদুল হাসান মিল্টন নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেরভেরী গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে। খুনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলায় ৪১ জনকে আসামি করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দুই নিহত ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া ও মাহমুদুল হাসান মিল্টনের বাবা-মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছেলে হারা দুই পরিবারের বাবা-মাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিকভাবে সহায়তাসহ সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

Comments

comments