তিন মাস ধরে অসহায়দের খাওয়াচ্ছেন ঢাবি শিক্ষার্থী

করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অসহায় হয়েপড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার প্রায় সহস্রাধিক অভুক্তদের টানা ৮৬ দিন ধরে খাওয়াচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য তানভীর হাসান সৈকত।

মার্চের ২৩ তারিখ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র-টিএসসিতে রান্না করে অভুক্তদের খাওয়ানো শুরু করেন সৈকত। প্রতিদিন দু’বেলা (দুপুর ও রাত) খাবার রান্না করে এসব ব্যক্তিদের মধ্যে বিলিয়ে দেন তিনি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) পর্যন্ত টানা ৮৬ দিন ধরে খাবার বিলিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ১০০ দিন পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে তার। তবে সাহায্য-সহযোগিতা পেলে এই কার্যক্রম আরও চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে সৈকতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বেকার হয়েপড়া বিভিন্ন দোকানের কর্মচারীসহ ১৭ জনের একটি টিম নিয়মিত কাজ করছে। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই টিএসসিতে থাকছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কেউই করোনা বা অন্যকোনো রোগে আক্রান্ত হয়নি।

অসহায়দের খাওয়ানোর বিষয় নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে সৈকতের কথা হলে তিনি জানান, এসব মানুষেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় থাকত। তারা কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দোকানে কাজ করত, কেউ ফুল বা অন্যকোনো কিছু বিক্রি করত, কেউ রিকশা চালাতো আর কিছু মানুষ ভবঘুরে কিছুই করতো না। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে খাদ্য সংকটে পড়ে। আমি তাদের অবস্থা ভেবে মানবিক দিক বিবেচনা করে খাওয়ানোর উদ্যোগ নিই। প্রথম দিকে দুই-তিনশো মানুষ হলেও কিছুদিন পর তা হাজারের সংখ্যা পার করে ফেলে।

সৈকত বলেন, প্রথমে ব্যক্তি উদ্যোগে এই কার্যক্রম শুরু করলেও পরে বিভিন্ন মানুষের সহায়তায় এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখি। অনেক মানুষ এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সহায়তা করছে। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী আমাদের কাছে আর্থিক সহায়তা করছে। যারা পারেনি তারা শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। এই কার্যক্রমে আমি এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।

সৈকত আরও বলেন, এই কার্যক্রম চালানো যে কারও পক্ষেই খুব কঠিন। আমার জন্যও অনেক কঠিন হয়ে পড়ছে। তবুও মানুষের অসীম ভালোবাসার কাছে আমার এসব কষ্টই মনে হচ্ছে না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০০ দিন পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৈকত।

সৈকতের এই কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অনেক মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া খাদ্যভোগীরাও ডাকসুর এই নেতাকে ভালোবেসে ‘সৈকত মামা’ বলে ডাকেন।

প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার বিতরণ করা হয়। এই নির্দিষ্ট সময়ের কিছুক্ষণ পূর্বেই সৈকত তার হ্যান্ড মাইকের হুইসেল বাজালেই খাদ্য ভোগীরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে লাইন ধরে বসে থাকে। খুব সুশৃঙ্খলভাবেই সৈকত এসব মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করতে পারে।

এক ভবঘুরে খাদ্যভোগী বলেন, ঢাকা থেকে মানুষ যাওয়ার পর থেকেই আমাদের খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। হোটেলে খুঁজেও খাবার পাইতাম না। তখন সৈকত মামা আমাদের রান্না করে খাওয়ায়। সৈকত মামা খুব ভালো মানুষ। তিনি আমাদের জন্য অনেকদিন ধরে কষ্ট করছেন।

সূত্র: জাগো নিউজ

Comments

comments