দেশে করোনা রোগীদের অর্ধেকই তরুণ!

যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ প্রজন্মের করোনা আক্রান্ত হওয়ার হার বাড়ছে। বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে তরুণদের বেশি আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি ব্যতিক্রম হয়নি বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও। এখানে ৫০ ভাগ তথা অর্ধেক করোনা রোগীই তরুণ।

বিবিসি বাংলা বলছে, অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের বেশি হারে আক্রান্ত হওয়াকে এখন বিশ্বব্যাপী বিশেষ উদ্বেগের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া তরুণ প্রজন্ম ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ অর্থাৎ সংক্রমণ কমে আসার পর আবার ঊর্ধ্বগতিতে সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী হতে পারেন কিনা সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি সংস্থা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআরের তথ্যমতে, বাংলাদেশে করোনা এ পর্যন্ত শনাক্ত ব্যক্তির ৫০ শতাংশেরই বয়স ২১ থেকে ৪০ বছর।

তরুণরা কেন বেশি আক্রান্ত?

আইইডিসিআরের ভাইরলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন বলছেন, ‘তরুণরা উদ্বিগ্ন বোধ করছেন না। কারণ তারা দেখছেন যে আক্রান্ত হলেও তাদের উপসর্গগুলো খুব গুরুতর নয়।’

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় তাদের মধ্যে কোনো উপসর্গই দেখা যায় না। তারা দেখছে যে, মূলত বয়স্করাই বেশি মারা যাচ্ছেন। তাই করোনাভাইরাসকে তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন।’

তরুণরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন কম। তারা যে অন্যদের জন্য ঝুঁকির কারণ সে বিষয়ে আলাদা করে কোনো প্রচারণা না থাকায় সংক্রমণ রোধে নিজেদের দায়িত্বটুকু তারা বুঝতে পারছেন না।

অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন বলেন, ‘রাস্তায় নামলে দেখা যায় অনেক তরুণ গা ঘেঁষাঘেঁষি করে আড্ডা দিচ্ছেন। কারো মুখে হয়তো মাস্ক আছে, কারো নেই। কেউ আবার মাস্ক গলায় ঝুলিয়ে রেখেছেন। তারা বাইরে বের হন বেশি, তাদের মধ্যে রেকলেস হওয়ার প্রবণতাও বেশি।’

তার মতে, এই তরুণরাই বাড়ি গিয়ে নিজের পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয়দের সংক্রমিত করছেন। পরিবারে আগে থেকেই কারো হার্ট, কিডনির সমস্যা বা ডায়াবেটিস আছে তাদেরকেও বড় ঝুঁকিতে ফেলছেন।

আইইডিসিআরের এই কর্মকর্তা বলেন, তরুণরা নিজেরা আক্রান্ত হয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছেন।

বাংলাদেশের পারিবারিক কাঠামোর জন্যেও তরুণরা অন্যদের ঝুঁকির কারণ বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো পরিবারগুলোতে বাবা-মা, ভাই-বোন হয়তো অন্য কোনো আত্মীয় সবাই মিলে একসঙ্গে থাকেন।… স্বভাবতই তরুণদের কেউ বাইরে আক্রান্ত হলে সে বাড়িতে অন্যদের সংক্রমিত করবে।’

জোবাইদা নাসরিন বলেন, ‘এই বয়সীরাই (২১-৪০) মূলত পরিবারের অর্থের যোগান দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন বেশি। তাকে চাকরির জন্য, ব্যবসা বাণিজ্য বা পরিবারের অন্যান্য কাজে বাইরে যেতে হয় বেশি।’

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণে বয়স্কদের অবস্থা বেশি গুরুতর হয় এমন তথ্য জানার পর আমরা কিন্তু আমাদের পরিবারের বয়স্কদের এক অর্থে ঘরে বন্দি করে ফেলেছি। তাদের কাজগুলোও তরুণরা করে দিচ্ছে।’

সংক্রমণ রোধে তরুণ প্রজন্মের যে বাড়তি দায়িত্ব, সেটি তাদের বোঝাতে আলাদা করে প্রচারণার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পরিচালক ডা. মো: হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কভিড-১৯ সম্পর্কে সচেতনতায় আমরা যে প্রচারণা চালাচ্ছি, সেখানে তরুণ প্রজন্মকে বোঝানোর জন্য আলাদা কোন প্রচারণা নেই।… তাদের জন্য আলাদা প্রচারণা হওয়া উচিৎ।’

Comments

comments