গণশৌচাগার নির্মাণের নামে আ.লীগ নেতাদের মাঠ দখলের ষড়যন্ত্র!

জয়পুরহাটে গণশৌচাগার নির্মাণের আড়ালে প্রভাবশালীদের রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী মাঠ দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

এতে একদিকে স্থানীয়দের জাতীয় দিবস পালন, খেলাধুলা, সাপ্তাহিক হাট-বাজার, বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকসহ নানা অনুষ্ঠান পালনে বিঘ্ন ঘটবে। অন্যদিকে ঐ প্রভাবশালীরা মাঠটি দখল করে বাণিজ্যিকভাবে ঘর ও মার্কেট নির্মাণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে ও এলাকার ঐতিহ্য হারানোর আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসীরা।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে কাজ করায় বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ।

স্থানীয় সূত্র ও দেশ রূপান্তেরের অনুসন্ধানে জানা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের, জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায়, জয়পুরহাটের তিলকপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের মাঠে রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে গণশৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু করে আক্কেলপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

শত বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রায় ২ একর এ মাঠে জাতীয় দিবসসহ নানান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করা হয়। সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় অন্য স্থানে গণশৌচাগার নির্মাণের প্রয়োজন থাকলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমি দখলদাররা সুকৌশলে ঐতিহ্যবাহী এ মাঠে গণশৌচাগার নির্মাণ করে মাঠটি দখলের ষড়যন্ত্র করছেন এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। ঐতিহ্যবাহী মাঠ দখলমুক্ত ও সুরক্ষার দাবি জানান তারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল সোবহান, তোজাম্মেল হোসেন, হারুন-অর-রশীদ, জাকির হোসেন, মাদ্রাসার পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিকসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার সামনে আমাদের মার্কেট আছে। মার্কেটের সামনে রেলওয়ের মাঠে জাতীয় বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, মে দিবস, সাপ্তাহিক হাট-বাজার, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের খেলাধুলা, বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানান অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এখনে যে টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে তা এই জায়গাতে প্রয়োজন নেই। কারণ গণশৌচাগার হিসাবে মাঠের সাথেই মাদ্রাসার টয়লেট, গোসলখানা ব্যবহার করে আসছে সাধারণ মানুষ এতে কোনো সমস্যা নাই। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ অবশ্যই হবে। কিন্তু যেখানে প্রয়োজন সেখানে হওয়া দরকার এই শৌচাগারটি হাটের মধ্যে প্রয়োজন।

হাটের মধ্যে না করে রেলওয়ের সম্পত্তি দখল করার ষড়যন্ত্র করে এলাকার কিছু কুচক্রী মহল ভূমি দখলদাররা এই রেলওয়ের মাঠটিতে রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া গণশৌচাগার নির্মাণ শুরু করেছিল।

এই নির্মাণের আড়ালে প্রায় শত বছরের এই ঐতিহ্যবাহী মাঠটি দখল করে বাণিজ্যিকভাবে দোকান ও মার্কেট নির্মাণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এই মাঠে গণশৌচাগার নির্মাণ করছে। ইতিপূর্বে একইভাবে স্টেশনের পূর্ব পাশে দখলদাররা বড় বড় মার্কেট করেছে। অবিলম্বে অন্য স্থানে এই গণশৌচাগার নির্মাণ করার দাবি জানান তারা।

তিলকপুর স্টেশন পোর্টাল শারমিন আক্তার বলেন, শুধুমাত্র প্লাট ফর্ম রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের। রেলওয়ের স্টেট বিভাগ ভূমির বিষয়গুলো দেখেন। তারা এসে ঐ শৌচাগারের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে, এর বেশি কিছু আমার জানা নেই।

তিলকপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও হাট কমিটির সভাপতি সেলিম মাহবুব সজলের কাছে মাঠ দখলের ব্যাপারে বক্তব্য নিতে চাইলে, বহুত কষ্টে আছি বলে আর কিছু না বলে এড়িয়ে যান।

আক্কেলপুর উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনজুরুল হাসান বলেন, আগের ইউএনও ও উপজেলা কমিটি মৌখিকভাবে ঐ মাঠে কাজ করতে বলেছিলেন এজন্য কাজ শুরু করা হয়েছিল।

রেলওয়ের লোকজন এসে নির্মাণ কাজ স্থগিত করতে বলায় কাজ বন্ধ আছে।

আক্কেলপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার এস এম হাবিবুল হাসান বলেন, উপজেলা মিটিংয়ে সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ঐ এলাকায় একটি গণশৌচাগার জরুরি প্রয়োজন। এ কারণে গণশৌচাগারটির কাজ শুরু করা হয় কিন্তু যেহেতু রেলওয়ের সম্পত্তি তাদের কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফির্কেট নেওয়া ছিল না এ জন্য কাজ বন্ধ আছে। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতনকে এ ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারপরও জনস্বার্থের কোনো সমস্যা হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: দেশ রূপান্তর

Comments

comments