রিজেন্ট কাণ্ডের ৩ দিনেও গ্রেফতার হয়নি প্রতারক শাহেদ

রিজেন্ট কাণ্ডের তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও গ্রেফতার করা হয়নি করোনার মত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে প্রতারণা করে ধরা খাওয়া রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা শাহেদ করিম। গতকাল হাসপাতালটি সিলগালা করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সেই প্রতারককে গ্রেফতার করার কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

প্রশ্ন উঠেছে রাজধানীর মত জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক মহলের বেস্টুনি পেরিয়ে শাহেদ কিভাবে চালাতো এসব কাণ্ড? এত বড় ঘটনার পরেও কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? অনেকেই আবার বলছেন কোন গণমাধ্যম শাহেদের গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেনা কেন?

দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক মহল থেকে শুরু কেরে গণভবন পর্যন্ত রয়েছে প্রতারক শাহেদের ক্ষমতা। ব্যক্তিগত গাড়িতে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টিকার। সঙ্গে গানম্যান নিয়ে চলতেন শাহেদ। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে সেই ছবি বিলবোর্ডে সাঁটিয়ে দিতেন হাসপাতালের সামনে। শুধু তাই নয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ওবায়দুল কাদের, তোফায়েল আহমেদ, হানিফ, সেনাপ্রধান, র‌্যাবের সাবেক ডিজি বেনজির, পুলিশের সাবেক আইজিপি শহীদুল হকসহ সরকারের এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নেই যার সঙ্গে শাহেদের ছবি নাই। এছাড়া সাংবাদিক পাড়ায়ও রয়েছে তার পদাচারণা।

জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অনুমতি আনা থেকে শুরু করে সব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ও সাংবাদিক মহলের বিশেষ টিম কাজ করেছে। এই ভুয়া টেস্টের নামে যে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে তার একটি ভাগও সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হতো। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাহেদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সাংবাদিক মহলের যে ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেখানে সাংবাদিকদের সাথে শাহেদের সৌহার্দ স্পষ্ট।

সমালোচকরা বলছেন, শাহেদকে গ্রেফতার করলে কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে। ইতোমধ্যে যেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তা নিয়ে সরকার বিপাকে। এরপর যদি গ্রেফতার করা হয় তাহলে ফেঁসে যেতে পারেন ক্ষমতাসীন দলের বেশ কিছু মন্ত্রীও। এজন্য শাহেদকে গ্রেফতারের কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শাহেদকে গ্রেফতারের কোন কথা না বলে হস্যরস করে বলেছেন ‘চোর ধরে চোর হয়ে যাচ্ছি আমরাই’। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই বলেছেন, এতবড় একটা কাণ্ডের পর দেশের নেত্রী থেকে এরকম কথা অবাঞ্ছিত। সরকারের উচিৎ শাহেদকে গ্রেফতার করে রাঘব বোয়ালদের বের করে নিয়ে এসে শাস্তির আওয়াতায় নিয়ে আসা।

Comments

comments