‘অপকর্ম করছে আ.লীগ আর জনরোষের ভয় বিএনপিকে, কি হাস্যকর!’

বিএনপি জনরোষের আতঙ্কে আছে- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

রিজভী আরও বলেন, ‘তার এই কথার জবাব দিয়ে তার গুরুত্ব বাড়ানোর দরকার আছে বলে বিএনপি মনে করে না। তার এই কথায় প্রতীয়মান হয় যে, সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থতা আর সর্বগ্রাসী দুর্নীতি-লুটপাটে বেসামাল মিডনাইট সরকার দেশে-বিদেশে বিতর্কিত হয়ে পড়ায় অস্থির হয়ে পড়েছে। তাদের চারদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘নিজেদের আয়নায় এখন কেবল জনগণের দল বিএনপিকে কল্পনা করছেন তারা। কাদের সাহেবের কথাটা হবে- আওয়ামী লীগ জনরোষের আতঙ্কে আছে। কিন্তু তিনি উল্টো দিকে ঘুরিয়ে ফেলেছেন কথাটা। নিজেদের অবস্থাটা এখন অন্যের ভেতরে দেখতে চাচ্ছেন। অনুভব বা অনুমান করছেন যে, তাদের কি ভয়াবহ অবস্থা!’

বিএনপি মুখপাত্র বলেন, ‘বিএনপি আতঙ্কিত হবে কেন? বিএনপি কি চাল চুরি, তেল চুরি, ত্রাণ চুরি, করোনার টেস্ট কিট দুর্নীতি, ব্যাংক লোপাট, রাজকোষ চুরি, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন, রাতের অন্ধকারে জনগণের ভোট ডাকাতির কাজে লিপ্ত ছিল?

‘দেশব্যাপী এসব চুরি-ডাকাতি ও লুটের সঙ্গে আপনাদের জড়িত থাকাটা শুধু দেশীয় গণমাধ্যম না আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রচার হচ্ছে। সুতরাং জনরোষের ভয়ঙ্কর আতঙ্কের মধ্যে আপনারা এখন প্রলাপ বকছেন’ যোগ করেন তিনি।

এ সময় রিজভী বলেন, হুমকি-ধামকি, হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের ভয় উপেক্ষা করেও আমরা অব্যাহতভাবে সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি ,ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করছি, অনিয়মগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, এই সরকার কোনো কথাই কানে নেওয়ার চেষ্টা করছে না অথবা শুনেও না শুনার ভান করছে। বরং আমরা দেখছি, সরকারের একটাই কাজ, কারণে-অকারণে শুধু বিএনপির বিরোধিতা করা।

সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপি মুখপাত্র বলেন, ‘সারাক্ষণ আতঙ্কে কাটে আপনাদের দিন-রাত। চারদিকে আপনাদের অপকর্মের স্তূপ এতো বিকট আকার ধারণ করেছে যে, বিএনপিকে গালমন্দ করা ছাড়া এই মুহূর্তে আপনাদের স্টকে আর কিছু নেই। তাই প্রলাপ বকেন আর বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা করেন।’

তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে এখন আলোচিত ভোট ডাকাতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী আওয়ামী লীগ। যত অপকর্ম করছে আওয়ামী লীগ আর জনরোষের ভয় দেখাচ্ছেন বিএনপিকে। কি হাস্যকর কথা!’

রিজভী বলেন, যদি সৎ সাহস থাকে তবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন, তখন দেখা যাবে কারা জনরোষে পড়ে।

এছাড়া তিনি বলেন, ‘গত এপ্রিল মাসে ওবায়দুল কাদের সাহেব করোনা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এক ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি মনিটর করছেন, নির্দেশনা দিচ্ছেন, তদারকি করছেন।’

‘জনগণ জানতে চায়- প্রধানমন্ত্রী যদি করোনা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটর করেন, তাহলে ভুয়া প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথ কেয়ার এবং রিজেন্ট হসপিটাল করোনা টেস্ট ও ট্রিটমেন্টের অনুমতি পেলো কেমন করে?’ প্রশ্ন বিএনপি মুখপাত্রের।

তিনি বলেন, এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে নেওয়া সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানেন না, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানেন না তাহলে জানবে কে? কার জানা উচিত? জনগণের প্রশ্ন- দেশটা আসলে চালায় কে?

রিজভী বলেন, এমন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে চাইলে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় গোটা সরকারেরই খোলনলচে পাল্টাতে হবে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীসহ এই সরকারের পদত্যাগ করতে হবে।

Comments

comments